খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে রাজস্থান রয়্যালস দলটির সময়টা বেশ দারুণ কেটেছে। যদিও তারা চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় তথা ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি, তবুও পুরো আসর জুড়ে দলটির উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান বৈভব সূর্যবংশী নিজের বিধ্বংসী ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছেন। রাজস্থান রয়্যালস দলের প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা এই তরুণ ক্রিকেটারের ব্যাটিং প্রতিভাকে অত্যন্ত কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বৈভবের এমন ভয়ডরহীন ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখার পর এই লঙ্কান কিংবদন্তি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, খুব শীঘ্রই এই তরুণ ওপেনার ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলে ডাক পেতে যাচ্ছেন।
চলতি আইপিএল আসরে বৈভব সূর্যবংশী ব্যাট হাতে রীতিমতো প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তাঁর রান সংগ্রহের গতি এবং চার-ছক্কার মারের দক্ষতা বোলারদের জন্য চরম ত্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আসরে তাঁর সামগ্রিক অনন্য পারফরম্যান্সের একটি সুনির্দিষ্ট বিবরণ নিচের সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় বা পারফরম্যান্সের ক্ষেত্র | পরিসংখ্যানগত তথ্য |
| সর্বমোট খেলার সুযোগ পাওয়া ইনিংস | ১৬টি |
| আসরে সংগৃহীত সর্বমোট রান | ৭৭৬ রান |
| রান সংগ্রহের গড় গতি বা স্ট্রাইক রেট | ২৩৭.৩০ |
| বাউন্ডারি (চার ও ছক্কা) থেকে আসা মোট রান | ৬৮৪ রান |
| ইনিংসে মারা সর্বমোট চারের সংখ্যা | ৬৩টি |
| আসরে মারা সর্বমোট ছক্কার সংখ্যা | ৭২টি (রেকর্ড পরিমাণ) |
| শতক বা সেঞ্চুরির সংখ্যা | ১টি |
| অর্ধশতক বা হাফ সেঞ্চুরির সংখ্যা | ৫টি |
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৈভব সূর্যবংশীর সংগৃহীত মোট রানের সিংহভাগ অর্থাৎ ৬৮৪ রানই এসেছে চারের মার ও রেকর্ড সংখ্যক ছক্কার মার থেকে। তবে এই আসরে তিনি এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। নিজের খেলা শেষ চারটি ইনিংসের মধ্যে তিনটিতেই তিনি নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছেও সেটিকে তিন অঙ্কের ঘরে বা শতরানের মাইলফলকে রূপান্তর করতে পারেননি, যা ক্রিকেটীয় পরিভাষায় ‘নার্ভাস নাইন্টি’ বা নব্বইয়ের ঘরের স্নায়ুচাপ হিসেবে পরিচিত।
প্লে-অফ পর্বের এলিমিনেটর ম্যাচে বৈভব সূর্যবংশী মাত্র ২৯টি বলের মুখোমুখি হয়ে ৯৭ রানের একটি বিধ্বংসী ও স্মরণীয় ইনিংস খেলেন। এর পরবর্তী ম্যাচেও নিজের দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রেখে তিনি ৪৭টি বল খেলে ৯৬ রান সংগ্রহ করেন। এই ইনিংসে তিনি ৩১টি বলের মাধ্যমে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যা ছিল চলতি আসরে তাঁর খেলা সবচেয়ে ধীরগতির অর্ধশতক। তবে এই মাইলফলক স্পর্শ করার পরেই তিনি পুনরায় রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন এবং পরবর্তী মাত্র ১৫টি বল থেকে দ্রুত ৪৬ রান তুলে নেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ডিপ থার্ড অঞ্চলে ফিল্ডার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার হাতে একটি সহজ ক্যাচ দিয়ে তিনি পুনরায় নব্বইয়ের ঘরে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।
বৈভবের এই অনন্য ও লড়াকু প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত দলগতভাবে সফল হতে পারেনি। প্রতিপক্ষ দল গুজরাট টাইটান্সের দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান শুভমান গিল এবং সাই সুদর্শনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে গুজরাট জয় লাভ করে। এই হারের ফলে ২০২২ সালের পর রাজস্থান রয়্যালসের পুনরায় ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
দল পরাজিত হলেও বৈভব সূর্যবংশীর চোখধাঁধানো ব্যাটিং প্রদর্শনীতে মুগ্ধ হয়েছেন দলের প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা। তরুণ এই cricketer-কে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাঙ্গাকারা অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন যে, বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও প্রথম সারির কিছু বোলারদের বিরুদ্ধে বৈভব যেভাবে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কোচের মতে, বৈভবকে যেকোনো ধরণের কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হোক না কেন, তিনি তা সফলভাবে মোকাবেলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সাঙ্গাকারা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান যে, তিনি নিশ্চিত বৈভব সূর্যবংশী অতি দ্রুতই ভারতের জাতীয় দলে ডাক পাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই তরুণ ক্রিকেটার অত্যন্ত পরিপক্ক মনস্তত্ত্বের সাথে ব্যাটিং পরিচালনা করেন এবং চলতি আসরে রাজস্থান রয়্যালস দলের উদ্বোধনী জুটিতে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।
প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা বৈভব সূর্যবংশীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের স্বভাবজাত ব্যাটিং বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ করেন যে, এই তরুণ খেলোয়াড়কে নিয়ে দলের একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। দল কখনোই তাঁর চিন্তাভাবনায় বাড়তি কোনো মানসিক চাপ বা অপ্রয়োজনীয় চিন্তা তৈরি করতে চায় না। বৈভব নিয়মিতভাবে দলের সকল নীতি নির্ধারণী সভায় উপস্থিত থাকেন, সেখানে নিজের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও অবদান রাখেন, জ্যেষ্ঠদের কথা শোনেন এবং নিজের ভুলত্রুটি সুধরে নেওয়ার জন্য প্রচুর পড়াশোনা ও অনুশীলন করেন। তিনি প্রতিপক্ষ দলের বোলারদের শক্তি এবং দুর্বলতা সম্পর্কে ভালোভাবে পড়াশোনা করেন এবং তাঁদের বোলিংয়ের ভিডিও চিত্র দেখে নিজেকে নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করেন। সাঙ্গাকারা বলেন যে, দল তাঁর মনে কোনো ধরণের অপ্রয়োজনীয় বা নেতিবাচক চিন্তা প্রবেশ করাতে ইচ্ছুক নয়। রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষ সর্বদা বৈভবের কাছ থেকে একটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার মানসিকতা এবং ভয়ডরহীন স্বাভাবিক ব্যাটিং পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করে।