খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
শক্তিশালী প্রিমিয়াম বৃদ্ধির ওপর ভর করে ২০২৫ সমাপ্ত বছরে আন্তর্জাতিক বীমা প্রতিষ্ঠান এমএস আমলিন তাদের কর-পরবর্তী নিট বা প্রকৃত মুনাফায় এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিগত বছরের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা প্রায় শতকরা ৭৯.৯ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ড ১৭ (আইএফআরএস ১৭) অনুযায়ী প্রকাশিত এই সর্বশেষ আর্থিক ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির বীমা সেবা এবং আর্থিক বিনিয়োগ উভয় খাতেই মুনাফার সূচক ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
এমএস আমলিনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরে প্রতিষ্ঠানটির কর-পরবর্তী নিট বা প্রকৃত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (যা ২৬৮ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ডের সমতুল্য)। এর পূর্ববর্তী বছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৭৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১৪৯ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড)।
একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বীমা সেবা খাতের মুনাফা ২৫০.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (২১৫ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড) থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫৭.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (৩০৭ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড) উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, নিট আর্থিক ফলাফলের সূচকও আগের বছরের ৫৭.০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৯ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড) থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭৪.৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (৬৪ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড) এসে পৌঁছেছে।
নিচে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের বিভিন্ন প্রধান আর্থিক সূচকের একটি তুলনামূলক চিত্র ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| আর্থিক সূচকের বিবরণ ও খাত | ২০২৪ সালের আর্থিক চিত্র (মার্কিন ডলারে) | ২০২৫ সালের আর্থিক চিত্র (মার্কিন ডলারে) | বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (শতকরা) |
| কর-পরবর্তী নিট বা প্রকৃত মুনাফা | ১৭৩.৫ মিলিয়ন ডলার | ৩১২ মিলিয়ন ডলার | ৭৯.৯% বৃদ্ধি |
| বীমা সেবা খাতের অর্জিত মুনাফা | ২৫০.৩ মিলিয়ন ডলার | ৩৫৭.৪ মিলিয়ন ডলার | ৪২.৭% বৃদ্ধি |
| নিট আর্থিক বিনিয়োগের ফলাফল | ৫৭.০৪ মিলিয়ন ডলার | ৭৪.৫১ মিলিয়ন ডলার | ৩০.৬% বৃদ্ধি |
| লিখিত প্রকৃত বা নিট প্রিমিয়াম | প্রযোজ্য নয় | ২.১৯ বিলিয়ন ডলার | ২৬.৯% বৃদ্ধি |
| অর্জিত প্রকৃত বা নিট প্রিমিয়াম | প্রযোজ্য নয় | ২.০৭ বিলিয়ন ডলার | ১৩.৩% বৃদ্ধি |
আলোচ্য সময়ে এমএস আমলিনের লিখিত নিট বা প্রকৃত প্রিমিয়ামের পরিমাণ শতকরা ২৬.৯ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে ২.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (১.৮৮ বিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড) উন্নীত হয়েছে। এর পাশাপাশি অর্জিত নিট প্রিমিয়ামের পরিমাণও শতকরা ১৩.৩ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২.০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (১.৭৮ বিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড)। প্রতিষ্ঠানটির সম্মিলিত অনুপাত বা কম্বাইন্ড রেশিও বিগত বছরের ৮৬.২ শতাংশ থেকে উন্নতি লাভ করে ৮৩.০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ইতিবাচক ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচয় দেয়। তবে ব্যয় অনুপাত বা এক্সপেন্স রেশিও সামান্য পরিবর্তিত হয়ে ৩৭.০ শতাংশ থেকে বর্তমানে ৩৭.৩ শতাংশে এসে থিতু হয়েছে।
ব্যবসায়িক পরিধি ও বীমা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে এমএস আমলিন লয়েডসের অধীনে একটি নতুন উপ-সিন্ডিকেট ‘এস১৬৭৩’ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো অতিরিক্ত আন্ডাররাইটিং বা বীমা ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং নতুন নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা। এই উপ-সিন্ডিকেটের আওতার ঝুঁকিগুলো পরবর্তীতে মূল সিন্ডিকেট ২০০১-এর সাথে একীভূত বা একত্রীভূত করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, আলোচ্য সময়ে বাজারের বিভিন্ন অংশে বীমা হারের অনুকূল পরিবর্তন এবং অধিকাংশ ঝুঁকি গ্রহণ লাইনে ইতিবাচক বাণিজ্য হওয়ার কারণে এই সাফল্য এসেছে। তবে এই বছরের ফলাফলের মধ্যে বেশ কিছু বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের আর্থিক প্রভাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়াবহ দাবানল।
এমএস আমলিনের এই সমস্ত আর্থিক তথ্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ড ১৭-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি ‘এমএসঅ্যান্ডএডি ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ হোল্ডিংস’-এর অংশ হিসেবে এমএস আমলিনের একক পারফরম্যান্স বা ফলাফল প্রদর্শন করে। আগামী বছরের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস নিয়ে মূল গ্রুপ প্রতিষ্ঠান এমএসঅ্যান্ডএডি জানিয়েছে যে, আগামীতে তাদের সামগ্রিক বীমা রাজস্ব বা আয় মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাজারে বীমার মূল্য শিথিল হওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিগুলো আবার স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসার সম্ভাবনার কারণে তাদের সমন্বিত মুনাফার পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে।