খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা ঘটে বুধবার (৪ মার্চ) সকালে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে, যেখানে স্থানীয়দের কাছে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে শ্রীঘর গ্রামের আরুশ মিয়া থেকে নুরধন মিয়ার ছেলে শাহজাহান মিয়া এক লাখ টাকা ধার নেয়। ধার নেয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না হওয়ায় মঙ্গলবার আরুশ মিয়া ও নুরধন মিয়ার মধ্যে বাক্যবিতণ্ডা শুরু হয়।
পরবর্তীতে বুধবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের এবং পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, সংঘর্ষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানান, এই সংঘর্ষের কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের লোকজন গ্রামে চলে এসেছে এবং কিছু বাড়ি ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনাটি আরও পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য উভয় পক্ষের মূল বিবরণ এবং আহতদের সংখ্যানুযায়ী একটি টেবিল দেওয়া হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| সংঘর্ষের স্থান | শ্রীঘর গ্রাম, বুড়িশ্বর ইউনিয়ন, নাসিরনগর |
| সংঘর্ষের তারিখ ও সময় | ৪ মার্চ, সকাল |
| আহত সংখ্যা | ২০ জন (উভয় পক্ষ) |
| চিকিৎসা নেওয়া | নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে |
| মূল বিষয় | পাওনা ১ লাখ টাকা না পরিশোধ |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | টেঁটা, বল্লম, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র |
| পুলিশ পদক্ষেপ | ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা |
এই সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। তারা জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধের বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ধরনের সংঘর্ষ স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলাকায় গ্রামবাসীদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পুলিশকে সতর্কভাবে পাহারা দিতে দেখা গেছে।