চট্টগ্রামের রাউজানে ভক্ত সেজে পারিবারিক মন্দিরে ঢুকে প্রতিমার গয়না চুরির অভিযোগে মুশফিকুর রহমান সিয়াম (১৮) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তার বসতঘর থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার গয়নার সিংহভাগ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। রুপার গয়নাসহ মোট উদ্ধার হওয়া অলংকারের মূল্য প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিংহ বাড়ির পারিবারিক মনসা মায়ের মন্দিরে চুরির এ ঘটনা ঘটে। মন্দিরটি স্থানীয়ভাবে একটি পারিবারিক উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরের পুরোহিত অল্প সময়ের জন্য পাশের একটি বাড়িতে যান। সেই সুযোগে ওই তরুণ মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমায় অর্পিত গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মন্দিরের পক্ষ থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাউজান থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রথমে মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটের দিকে এক তরুণ হেঁটে মন্দিরের সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর সে দুই হাত জোড় করে ভক্তির ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করে এবং আশপাশে তাকায়। পরে মন্দিরের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় তিন মিনিট পর তাকে দ্রুত মন্দির এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়।
ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পর পুলিশ পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া গ্রামের বাসিন্দা সিয়ামের বিষয়ে নিশ্চিত হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় কাগতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সিয়াম পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া গ্রামের মোটর মেকানিক মিজানুর রহমানের ছেলে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তার বসতঘরের শয়নকক্ষে থাকা একটি স্টিলের আলমিরায় তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রুপার গয়নার সিংহভাগ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া কানের দুল, একটি মাথার টিকলি, একটি লকেট এবং দুটি বেলপাতা। এসব স্বর্ণালংকারের মোট ওজন দুই ভরি এক আনা এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া চার ভরি ওজনের একটি রুপার গলার চেইন ও এক জোড়া নূপুর উদ্ধার করা হয়েছে। এসব রুপার গয়নার আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।
| উদ্ধার হওয়া গয়না | পরিমাণ/ওজন | আনুমানিক মূল্য |
|---|---|---|
| কানের দুল | এক জোড়া | — |
| মাথার টিকলি | একটি | — |
| লকেট | একটি | — |
| বেলপাতা | দুটি | — |
| স্বর্ণালংকারের মোট ওজন | ২ ভরি ১ আনা | ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা |
| রুপার গলার চেইন | ৪ ভরি | — |
| রুপার নূপুর | এক জোড়া | — |
| উদ্ধার হওয়া রুপার গয়নার মূল্য | — | ১৫ হাজার টাকা |
| স্বর্ণ ও রুপার গয়নার মোট মূল্য | — | প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা |
চুরির ঘটনায় মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ সিংহ বাদী হয়ে রোববার (২৩ আগস্ট) রাউজান থানায় মামলা করেন। পরে ওই মামলায় সিয়ামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তার বসতঘর থেকে চুরি যাওয়া গয়নার সিংহভাগও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। তবে চুরির পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, কিংবা উদ্ধার হওয়া গয়নার বাইরে আরও কোনো মালামাল চুরি হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।



