খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে মাঘ ১৪৩২ | ২২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। নির্বাচনি তফশিল অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা এখন জনসভা, পথসভা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে প্রচারণার এই ব্যস্ত সময়ে সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তাবোধ জাগিয়ে তুলতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ, র্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নির্বাচনি মাঠের স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাঁদের পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনি প্রচারণায় চিরাচরিত পুলিশিংয়ের বাইরেও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হবে। ভোটারদের মধ্যে যেন কোনো ভীতি কাজ না করে, সে লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বা ‘ভিজিবল পুলিশিং’ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, প্রচারণা চলাকালে পুলিশের টহল ও পেট্রল সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বাচনি নিরাপত্তা কৌশলের মূল দিকসমূহ:
| বাহিনীর নাম | প্রধান কার্যক্রম ও বিশেষ গুরুত্ব | প্রযুক্তির ব্যবহার |
| বাংলাদেশ পুলিশ | ভিজিবল পুলিশিং, টহল বৃদ্ধি এবং সংঘাত প্রবণ এলাকায় দ্রুত সাড়া দান। | বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি। |
| র্যাব (RAB) | সাইবার স্পেসে অপতথ্য রোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং দাগি সন্ত্রাসীদের নজরদারি। | সাইবার মনিটরিং সেল, ড্রোন। |
| গোয়েন্দা সংস্থা | আগাম তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য সংঘাতের স্থান চিহ্নিতকরণ এবং দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়। | আধুনিক ট্র্যাকিং ও ডেটা অ্যানালাইসিস। |
| যৌথ বাহিনী | অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান এবং কারাগার থেকে পালানো আসামিদের গ্রেপ্তার। | বিশেষ অপারেশনাল টুলস। |
নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে জনসভা বা মিছিলের ওপর নজর রাখা হবে। দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের গায়ে থাকবে ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’, যা যেকোনো ঘটনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও গুজব (Fake News) ঠেকাতে র্যাবের সাইবার টিম ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং সাইবার জগতের অপরাধীদের শনাক্ত করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে পারে এমন ব্যক্তিদের তালিকা করে কাজ করছে প্রশাসন। বিশেষ করে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়া অপরাধী এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। জেলা পুলিশ সুপার ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনোভাবেই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার না ঘটে। সীতাকুণ্ডে র্যাবের ওপর হামলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সব বাহিনীকে নিয়ে চিরুনি অভিযান চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাঠ প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোনো সংঘাতের তথ্য পাওয়া গেলে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেজন্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বারবার সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করছেন যে, নির্ভয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়া এবং ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনি প্রচারণা কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ব্যাপক প্রস্তুতি জনগণের মনে আস্থা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম হবে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণই পারে এই নির্বাচনি উৎসবকে সাফল্যমণ্ডিত করতে।