খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচি তৃতীয় দিনের মতো চলছে। টানা ৪৮ ঘণ্টা অনশনে অংশ নেওয়া ৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জনকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৩ জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে অনশন শুরু হয়। কর্মসূচিতে বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের ধ্রুব বড়ুয়া, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ, দপ্তর সম্পাদক নাইম শাহজাহান, নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের ঈশা দে ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ধ্রুব বড়ুয়া, সুমাইয়া শিকদার ও সুদর্শন চাকমা বর্তমানে চিকিৎসাকেন্দ্রে রয়েছেন।
দাবির মধ্যে রয়েছে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের মানসম্মত চিকিৎসা, ক্যাম্পাসে নিরাপদ আবাসনের নিশ্চয়তা, হামলার ভিডিও প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বৃহস্পতিবার রাতে জানান, প্রশাসন আলোচনার প্রস্তাব দিলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে বুধবার রাতে তিনি অনশনকারীদের সঙ্গে কথা বলে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীদের অবস্থান, প্রক্টরিয়াল বডি পদত্যাগ ছাড়া তাঁরা কোনো প্রস্তাব মানবেন না।
চিকিৎসাকেন্দ্রে থাকা ধ্রুব বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের প্রায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছি। প্রশাসন অপরাধকে অপরাধ বলতে পারছে না, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। ঘরছাড়া শিক্ষার্থীদের আবাসনেরও কোনো রূপরেখা নেই। প্রশাসন দায়িত্বে থাকার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাচ্ছেন।
গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা সংঘর্ষে অন্তত ২০০ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করে অনশন শুরু করেন।
খবরওয়ালা/এন