খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যাচ মানেই উত্তেজনার পারদ সর্বাধিক স্তরে পৌঁছায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের লড়াই যেন একপাশে হয়ে উঠেছে। ভারত ক্রিকেট দলের ধারাবাহিক আধিপত্যের সামনে পাকিস্তান বারবার হতাশাজনক পারফরম্যান্সে সীমাবদ্ধ থাকছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ গ্রুপ ম্যাচেও একই চিত্র চোখে পড়েছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ম্যাচ সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে পাকিস্তান ১৮ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়, ফলে ভারতের জয় হয়েছে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে।
ভারতের ওপেনার ঈশান কিষাণ ৪০ বলের মোকাবিলায় ৭৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১০টি চার এবং ৩টি ছক্কা। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তাকে ম্যাচসেরা নির্বাচিত করা হয়েছে। পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যান উল্লেখযোগ্য জুটি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন, ফলে জয় সহজ হয়ে যায় ভারতের জন্য।
এই পরাজয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এক পাকিস্তানি সমর্থকের টিভি ভাঙচুরের ভিডিও। ভিডিওতে দেখা গেছে, পাকিস্তানের জার্সি পরা এক ব্যক্তি হতাশার ক্রোধে টিভি মাটিতে আছাড় মারছেন এবং ব্যাট দিয়ে বারবার আঘাত করছেন। ক্রিকেট সমর্থকদের আবেগের মাত্রা ও দলের বাজে পারফরম্যান্সই এই আচরণের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ম্যাচের সময় প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম সম্পূর্ণ ‘হাউসফুল’ ছিল। উপস্থিত ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রহিত শর্মাসহ আরও অনেকে। তবে পাকিস্তানের দ্রুত উইকেট পতনের সময় মহসিন নাকভিকে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করতে দেখা গেছে, যা নিয়ে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নীচের টেবিলে ২০২১ সালের পর থেকে দুই দলের টি-টোয়েন্টি মুখোমুখি পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
| বছর | প্রতিযোগিতা | জয় ভারত | জয় পাকিস্তান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ২০২১ | টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ | ১ | ০ | পাকিস্তান জয় ১০ উইকেটে |
| ২০২২ | এশিয়া কাপ | ০ | ১ | পাকিস্তান জয় ভারতের বিরুদ্ধে |
| ২০২۳-২০২৬ | বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি | ৮ | ০ | ধারাবাহিক ভারতের জয় |
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্যায়ে নিশ্চিত জায়গা পেয়ে গেছে। অন্যদিকে, ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তান দল ও টিম ম্যানেজমেন্ট সমালোচনার মুখে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানকে পুনর্গঠন ছাড়া আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের মতো আধিপত্যমূলক দলকে হারানো কঠিন হবে।