খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১৭ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের পুশইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সহযোগিতা চেয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
শনিবার (১৭ মে) সুন্দরবনের শ্যামনগরে বিজিবির ‘বয়েসিং ভাসমান বিওপি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সীমান্তবর্তী জনগণ যদি সন্দেহজনক কিছু খেয়াল করে সঙ্গে সঙ্গে বিজিবিকে জানায়, তাহলে আমাদের টহল টিম দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিজিবি ডিজি।
তিনি বলেন, “মূলত পুশইনের ঘটনা বেশি ঘটে সিলেটের বিয়ানীবাজার, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রৌমারী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায়। বিশেষ করে চর ও জনমানবহীন অঞ্চলে এই প্রবণতা বেশি।”
বিজিবি ডিজি জানান, পুশইন একটি অনিয়মিত পদ্ধতি। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই, যদি তারা প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিক হন, তাহলে নিয়ম মেনে, হস্তান্তর-গ্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনা হোক।”
তিনি আরও বলেন, “আজ সকালেও কিছু পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্ত দীর্ঘ হওয়ায় প্রতিটি জায়গা পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য আমরা জনগণ ও আনসারের সহায়তা নিচ্ছি।”
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, “পুশইনে যেসব ব্যক্তি আসছে, তাদের অনেকেরই ভারতীয় আধার কার্ড বা স্থানীয় পরিচয়পত্র রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে আমরা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারছি না তারা বাংলাদেশের নাগরিক কি না।”
জনগণের সম্পৃক্ততা চেয়ে তিনি বলেন, “যদি স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক থাকেন ও তথ্য দেন, তাহলে বিজিবি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। এটি প্রতিরোধে আমরা জনবল ও টহল বাড়িয়েছি।”
ভারত থেকে পুশইনের নামে কোনো অপরাধী দেশে প্রবেশ করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমাদের দায়িত্ব হলো, এমন কোনো ঘটনা না ঘটে যা দেশের বা জাতির ক্ষতির কারণ হতে পারে। এজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।”
সুন্দরবনের রায়মঙ্গল নদী ও সংলগ্ন বয়েসিং চ্যানেলে চোরাচালান চক্রের তৎপরতা নিয়েও কথা বলেন বিজিবি ডিজি। তিনি বলেন, “এই এলাকায় একটি সক্রিয় চোরাচালান চক্র ছিল। তাই এখানেই আমরা তৃতীয় ভাসমান বিওপি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে তৈরি বিওপিটি স্থাপন করে কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করছি, এর মাধ্যমে অপরাধ ও চোরাচালান আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যশোর রিজিয়ন কমান্ডার, খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন।
খবরওয়ালা/এন