খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
সোমবার রাত থেকে বাংলাদেশের প্রায় সব বিভাগে টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে এবং কিছু অঞ্চলের নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে জুলাই মাস সাধারণত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি প্রবণ সময় হিসেবে পরিচিত এবং এই সময়েই মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকে, যা ভারী বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে এবং নদীগুলোর পানি ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গত বছরও এই সময়ের মধ্যেই আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ব্যাপক বন্যা হয়েছিল। তখন দেশের বিভিন্ন জেলা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল এবং অনেক প্রাণহানিও হয়েছিল। এ বছরও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে বন্যার শঙ্কা ছিল।
এদিকে, বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে, যার প্রভাবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। এর ফলে দেশে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ২২২ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ১১০ মিলিমিটার, মাইজদীকোর্টে ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা অত্যন্ত ভারী। কক্সবাজারে গতকাল সর্বোচ্চ ১৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টি বাড়তে থাকার কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, খুলনা, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধ্বসের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেইসাথে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা মহানগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাতের কারণে প্রধান নদীগুলোর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচে রয়েছে এবং বন্যার আশঙ্কা আপাতত নেই। তবে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কিছু নদী, বিশেষত মুহুরি এবং সাঙ্গু নদী, সতর্ক সীমানায় প্রবাহিত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বন্যার সম্ভাবনা নেই কারণ বৃষ্টিপাত পশ্চিমাঞ্চলে বেশি হচ্ছে, যা বন্যার প্রবণতা কমিয়ে দিয়েছে।’
এদিকে, পাউবো এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলে পরিস্থিতি শান্ত হতে পারে।
খবরওয়ালা/আরডি