খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২০ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে’ স্লোগান দিতে দিতে উপাচার্যের গাড়িতে কয়েন ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটিয়েছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রশাসন ভবন-১-এর সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভর্তি কমিটির সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শর্তসাপেক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধায় (পোষ্য কোটা) ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিদ্ধান্তের পরপরই বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। পোষ্য কোটা পুনর্বহালের ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ চালায়। রাত ১২টা পর্যন্ত আন্দোলন চলার পর নতুন বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে জোহা চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এক ঘণ্টার বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম কাফনের কাপড় পরে এককভাবে আমরণ অনশনে বসেন। পরে আরও আটজন শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অনশনে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সজিবুর রহমান, সমাজকর্ম বিভাগের আরিফ আলভি, আবু রাহাদ ও সৈয়দ ইসপাহানী, ফলিত গণিত বিভাগের তৌফিকুল ইসলাম, আরবি বিভাগের রমজানুল মোবারক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নাজমুল হক আশিক এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের রেদোয়ান আহমেদ রিফাত।
গত শুক্রবার বিকেলে সাড়ে ৫টা থেকে অনশন শুরু হয়। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা অনশন ভাঙাতে চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে বেলা ১টার দিকে বৃষ্টিতে ভিজে অনশনরত অবস্থায় দুজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা হলেন, আরবি বিভাগের রমজানুল মোবারক ও সমাজকর্ম বিভাগের সৈয়দ ইসপাহানী। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রাবি মেডিকেলে পাঠানো হয়।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে প্রশাসন ভবন-১-এর সামনে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ চালানো হয়। পরে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের গাড়িতে কয়েন ছুড়ে মারে এবং ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে’ স্লোগান দিতে থাকে।
অনশনরত শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মৃত্যু পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। কাফনের কাপড় গায়ে দিয়ে এখানে বসেছি। এই অযৌক্তিক পোষ্য কোটা বাতিল না হলে আমরা এক ফোঁটা পানিও মুখে নেব না।’
সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘রাকসুর আমেজে আবারও পোষ্য কোটা ফিরিয়ে এনে রাকসু বানচালের অপচেষ্টা চলছে। তাঁরা মূলত রাকসুকে জিম্মি করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘পোষ্য কোটাসংক্রান্ত একটা মামলা হাইকোর্টে তালিকাভুক্ত হয়েছে। আমাদের ইতিমধ্যে উকিল নোটিশের উত্তরও দিতে হয়েছে। এটাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। আমরা তো আইনের বাইরে যেতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয় সচল রাখার জন্যই সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০ শর্তে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খবরওয়ালা/শরিফ