খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে পৌষ ১৪৩২ | ৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় এক আকস্মিক ও শক্তিশালী সামরিক অভিযান পরিচালনা করে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলায় একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই দেশটি পরিচালনা করবে। এই নজিরবিহীন সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্বজুড়ে সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী গত রাতে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এই অভিযান সম্পন্ন করেছে। তিনি ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের জন্য শান্তি কামনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “পৃথিবীর কোনো দেশ যা করতে পারেনি, মার্কিন বাহিনী তা গত রাতে করে দেখিয়েছে।” ট্রাম্প আরও হুশিয়ারি দেন যে, যদি প্রয়োজন হয় তবে দ্বিতীয় দফায় আরও বড় পরিসরে আক্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শিগগিরই মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ করে দেশটির বিশাল খনিজ সম্পদের ব্যবস্থাপনা শুরু করবে।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
| প্রধান তথ্য | ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানের সময় | ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (শনিবার ভোররাত ২টা থেকে)। |
| মূল লক্ষ্যবস্তু | রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও রাষ্ট্রপ্রধান। |
| আটককৃত ব্যক্তিত্ব | প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। |
| সামরিক কৌশল | বিমান হামলা, যুদ্ধবিমানের মহড়া ও বিশেষ কমান্ডো অভিযান। |
| ট্রাম্পের ঘোষণা | শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। |
| ভেনেজুয়েলার প্রতিক্রিয়া | জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন। |
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে কারাকাসের আকাশ যুদ্ধবিমানের গর্জন এবং সিরিজ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। টানা দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় পুরো শহর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই সিরিজ বিমান হামলা ছিল কয়েক মাস ধরে চলা হুমকির চূড়ান্ত প্রতিফলন। হামলার পরপরই ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি তাঁর জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রতিরোধের নির্দেশ দিলেও শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়া থেকে রক্ষা পাননি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের পেছনে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুত একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রবেশের কথা উল্লেখ থাকায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে ল্যাটিন আমেরিকার একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে এভাবে হামলা চালিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে নিউইয়র্কের মেয়রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবাদের সুর উঠছে। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখন ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, যা দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।