বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে প্রতিদিনের মুদ্রার বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রবাসে কর্মরত কোটি মানুষের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনায় বৈদেশিক মুদ্রার দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রেক্ষাপটে ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরা হলো।
বাংলাদেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের বিনিময় হার প্রায় স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ব্যাংকিং সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ক্রয় ও বিক্রয় হার ১২২ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার মধ্যে অবস্থান করছে। ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয় মূল্য ১৪৩ টাকা ৮৫ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১৪৩ টাকা ৯৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য যথাক্রমে ১৬৫ টাকা ১৯ পয়সা ও ১৬৫ টাকা ২৯ পয়সা।
এছাড়া এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের মুদ্রার মধ্যেও ভিন্ন ভিন্ন হার লক্ষ্য করা গেছে। জাপানি ইয়েনের মূল্য অত্যন্ত কম হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর গুরুত্ব অপরিসীম। অস্ট্রেলীয় ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার এবং কানাডীয় ডলারও প্রবাসী আয় ও বাণিজ্যিক লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারতীয় রুপির হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক।
নিচে আজকের প্রধান কয়েকটি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার দেওয়া হলো—
| মুদ্রার নাম |
ক্রয় মূল্য (টাকা) |
বিক্রয় মূল্য (টাকা) |
| মার্কিন ডলার |
১২২.৭০ |
১২২.৭৫ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড |
১৬৫.১৯ |
১৬৫.২৯ |
| ইউরো |
১৪৩.৮৫ |
১৪৩.৯৭ |
| জাপানি ইয়েন |
০.৭৭ |
০.৭৬৭ |
| অস্ট্রেলীয় ডলার |
৮৬.৬৬ |
৮৬.৭১ |
| সিঙ্গাপুর ডলার |
৯৬.৩১ |
৯৬.৪০ |
| কানাডীয় ডলার |
৮৮.৬৬ |
৮৮.৭০ |
| ভারতীয় রুপি |
১.৩১ |
১.৩১ |
| সৌদি রিয়াল |
৩২.৭৩ |
৩২.৫০ |
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার এই হার বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ, আন্তর্জাতিক সুদের হার, তেলের মূল্য পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করতে পারে। বিশেষ করে ডলার ও ইউরোর ওঠানামা বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য মুদ্রার এই হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য পরিবর্তনও তাদের আয় ও প্রেরিত অর্থের মানে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে মুদ্রার হারের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে এতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।