ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে চেতনানাশক দ্রব্য দিয়ে এক মা অজ্ঞান করে তার সাড়ে তিন মাস বয়সী কন্যা সন্তান জিদনিকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার সময় শিশু টিকা দেওয়ার জন্য মায়ের সঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিক যাচ্ছিল।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া বেগম ও আবদুর রব দম্পতির তৃতীয় সন্তান জিদনি সকালে ভোলা সদর উপজেলার চরপাতা গ্রামের মালেরহাট ব্রিজ এলাকায় ক্লিনিকের পথে ছিলেন। দুই মহিলা আচমকা তার সঙ্গে কথা বলে দুইশ টাকার নোট মায়ের হাতে দেন। সেই মুহূর্তে সুমাইয়া অচেতন হয়ে পড়েন এবং দুর্বৃত্তরা শিশুকে অটোরিকশায় করে দ্রুত অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে সুমাইয়া বেগম জ্ঞান হারান।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও মায়ের জ্ঞান ফেরেনি। তাকে ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও কোস্ট গার্ডের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করেছে।
শিশুর চাচা মো. জসিম চাকলাদার বলেন, “ক্লিনিকে যাওয়ার সময় মালের হাট ব্রিজের ওপর দুজন মহিলা আমার ভাবিকে কৌশলে টাকার প্রলোভন দেখান। ওই মুহূর্তেই সুমাইয়া অচেতন হয়ে যান। আমরা পরিবারের সবাই শিশুকে উদ্ধারের জন্য এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেছি।”
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. জিয়া উদ্দিন জানান, “এলাকায় মাইকিংসহ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” পুলিশ জানায়, শিশুটিকে উদ্ধার করতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এলাকাবাসীর সহায়তাও চাইছে।
ঘটনার সময়সূচি
| সময় | ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|---|
| সকাল ৯টা | ক্লিনিক যাত্রা | সুমাইয়া বেগম তার সন্তানকে টিকা দিতে নিয়ে যান |
| সকাল ৯:৩০টা | অপহরণ | দুই মহিলা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মা অচেতন করে শিশুকে নিয়ে পালায় |
| সকাল ১০টা | জ্ঞানহীন অবস্থা | সুমাইয়া নিকটস্থ আত্মীয় বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন |
| সকাল ১০:৩০টা | পরিবারে খোঁজ | স্বজনরা শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন |
| দুপুর ১২টা | পুলিশ ও র্যাব উপস্থিতি | আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে |
| বিকেল ৩টা | অনুসন্ধান অব্যাহত | শিশুর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি; উদ্ধার অভিযান চলছে |
পরিবার ও পুলিশ আপাতত আশাবাদী যে দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিশু জিদনিকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। ঘটনার শিকার মা ও শিশুর নিরাপত্তা এবং অবিলম্বে শিশুটিকে উদ্ধার করা এখন মূল লক্ষ্য।
যে কোনো তথ্য থাকলে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করার জন্য পুলিশ এলাকার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।