খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘বিকাশ’-এর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ। রবিবার (১২ এপ্রিল) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আতাউর রহমান ওরফে মেরাজুল (২৭)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার উত্তর ডোমঘাটা গ্রামের বাসিন্দা।
ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন রেলস্টেশনকে ঘিরে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এলাকায় অবস্থান করে তিনি সহজ-সরল ও অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের টার্গেট করতেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি প্রথমে যাত্রীদের কাছ থেকে কৌশলে তাদের পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন। এরপর তিনি সেই নম্বরে ফোন করে নিজেকে হাসপাতাল বা জরুরি পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত কেউ পরিচয় দিতেন।
ফোনে তিনি মিথ্যা তথ্য দিতেন যে, পরিবারের কোনো সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য জরুরি অর্থ প্রয়োজন। এই ধরনের ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বাধ্য করতেন।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে, এই চক্রের একটি ঘটনায় ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার এক কিশোরের পরিবার থেকে ১৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে অভিযোগ দায়ের করে, যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে মো. আতাউর রহমান স্বীকার করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এতে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা তৈরি হয়। আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে তিনি বাড়ি ছেড়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান শুরু করেন এবং পরে এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রতারণার পদ্ধতি | ফোনকলের মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় |
| লক্ষ্যবস্তু | অপ্রাপ্তবয়স্ক ও সহজ-সরল যাত্রী |
| ব্যবহৃত মাধ্যম | বিকাশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস |
| অবস্থান | ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশ এলাকা |
| স্বীকারোক্তি | অনলাইন জুয়ার আসক্তি ও ঋণের কারণে অপরাধে জড়ানো |
| ক্ষতিগ্রস্ত ঘটনা | একটি ঘটনায় ১৩,০০০ টাকা আত্মসাৎ |
ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণা রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। রেলস্টেশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কোনো অচেনা নম্বর থেকে জরুরি সাহায্য বা দুর্ঘটনার কথা বলে টাকা চাওয়া হলে তা যাচাই না করে কখনোই অর্থ পাঠানো উচিত নয়। প্রয়োজনে দ্রুত রেলওয়ে পুলিশ বা নিকটস্থ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রতারণা সাধারণ মানুষের আবেগ ও আতঙ্ককে কাজে লাগিয়ে সংঘটিত হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার অপব্যবহার করে অপরাধীরা সহজে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই সচেতনতা বাড়ানো এবং ডিজিটাল লেনদেনে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, রেলস্টেশনভিত্তিক এই প্রতারণা চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার হলেও এ ধরনের অপরাধ দমন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।