খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সংঘটিত এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় ফেসবুকে রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পোস্ট ও পাল্টা পোস্টকে কেন্দ্র করে। রোববার সকাল থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
প্রথম দফা সংঘর্ষ: সকালবেলা উপজেলা সদরের শান্তিনগর এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ: শান্তিনগরের ঘটনার রেশ ধরে বিকেলবেলা হাসপাতাল পাড়া এলাকায় দ্বিতীয় দফায় দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মীরা আহত হয়েছেন। রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আহতরা হলেন:
ছাত্রদল পক্ষ:
১. রুবেল পাটোয়ারী (আহ্বায়ক, রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদল)
২. রাকিব (কর্মী)
৩. আপন (কর্মী)
ছাত্রশিবির পক্ষ:
১. সুজন মিয়া (সভাপতি, রাজারহাট উপজেলা ছাত্রশিবির)
২. মাহিন (কর্মী)
৩. শরিফুল ইসলাম (কর্মী)
আহতদের মধ্যে সুজন মিয়ার মাথায় আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে। সকলকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনার পর দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার এবং উসকানির অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
ছাত্রদলের বক্তব্য:
রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন ডিগ্রি কলেজের দেয়ালে লিখন বা চিকা মারাকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের নেতারা ফেসবুকে উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন। এই পোস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোক জড়ো করে বিকেলবেলা আবারও পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয় বলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ছাত্রশিবিরের বক্তব্য:
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, রোববার সকালে শান্তিনগর এলাকায় উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের এক নেতাকে ছাত্রদলের কর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি সুজন মিয়া সেখানে মীমাংসা করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই ছাত্রদল এই হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার পরপরই রাজারহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে জানান, ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক তথ্য প্রচার রোধে স্থানীয় প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখছে। একইসাথে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শান্তিনগর ও হাসপাতাল পাড়া সংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠনগুলোর এই সহিংসতা শিক্ষার পরিবেশ ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ।
সংক্ষেপে ঘটনার সারসংক্ষেপ:
| বিষয় | তথ্য |
| তারিখ | ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ (রোববার) |
| স্থান | রাজারহাট উপজেলা, কুড়িগ্রাম (শান্তিনগর ও হাসপাতাল পাড়া) |
| পক্ষসমূহ | উপজেলা ছাত্রদল ও উপজেলা ছাত্রশিবির |
| আহত সংখ্যা | ৬ জন (উভয় পক্ষের ৩ জন করে) |
| মূল কারণ | ফেসবুক পোস্ট ও দেয়াললিখন কেন্দ্রিক বিবাদ |
| বর্তমান অবস্থা | পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে |