খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে মাঘ ১৪৩২ | ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের এক সময়ের কাণ্ডারি ও সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অবশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হাতে এসে পৌঁছেছে। আজ এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি নিশ্চিত করেছে যে, সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, মঞ্জুরুল ইসলামের কিছু আচরণ পেশাদারিত্বের সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বছরের ৭ নভেম্বর, যখন জাহানারা আলম একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ গুরুতর বেশ কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেন। এই অভিযোগের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে বিসিবি ৯ নভেম্বর একটি উচ্চ পর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্য গ্রহণ ও তথ্য বিশ্লেষণ শেষে গত ২ ফেব্রুয়ারি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত কমিটি জাহানারার করা নির্দিষ্ট চারটি অভিযোগ গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে। বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির সপক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অবশিষ্ট দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ ও হয়রানির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। নিচে তদন্ত কমিটি ও অভিযোগের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য ও ফলাফল |
| তদন্ত কমিটির প্রধান | সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিম (সুপ্রিম কোর্ট) |
| মূল অভিযোগকারী | জাহানারা আলম (সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ নারী দল) |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | মঞ্জুরুল ইসলাম (সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার) |
| পর্যালোচিত অভিযোগ | মোট ০৪টি (সুনির্দিষ্টভাবে উত্থাপিত) |
| প্রমাণিত অভিযোগ | ০২টি (প্রাথমিকভাবে অসদাচরণ প্রমাণিত) |
| কমিটির সুপারিশ | প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা জোরদার ও জিরো টলারেন্স নীতি পালন |
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত মঞ্জুরুল ইসলামের কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের ২০০৯ সালের ঐতিহাসিক রায়ের আলোকে হয়রানি ও অসদাচরণের সংজ্ঞায় পড়ে। যদিও মঞ্জুরুল ইসলামের সাথে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ গত বছরের ৩০ জুনেই শেষ হয়ে গেছে, তবে বিসিবি জানিয়েছে যে তারা এই বিষয়টি হাল্কাভাবে নিচ্ছে না। হয়রানি ও অপেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে বোর্ডের ‘শূন্য সহনশীলতা’ (Zero Tolerance) নীতির আলোকে আইনি পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই সাথে ভবিষ্যৎ সুরক্ষার লক্ষ্যে বিসিবি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে বড় ধরণের পরিবর্তন এনেছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিসিবির উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারপারসন রুবাবা দৌলাকে প্রধান করে একটি স্থায়ী ‘অভিযোগ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ভবিষ্যতে নারী ক্রিকেটারদের যেকোনো অভিযোগ গ্রহণ ও নিরসনে কাজ করবে। বিসিবির এই কঠোর অবস্থান দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।