খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বলিউডের জনপ্রিয় ও স্থায়ী দম্পতিদের কথা উঠলেই যে নামটি অনিবার্যভাবে আসে, তা হলো কাজল ও অজয় দেবগণ। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে তারা যেমন সফল, তেমনি তাদের প্রেমের গল্পও সমান আকর্ষণীয়।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীর মা তনুজা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, প্রেমে পড়ার পর সবার আগে কাজল তার কাছেই সেই কথা খুলে বলেছিলেন। একদিন হঠাৎ এসে মেয়ের সরল স্বীকারোক্তি—
“মা, আমি প্রেমে পড়েছি।”
স্বাভাবিকভাবেই তনুজার কৌতূহল—কার প্রেমে? কিন্তু সরাসরি নাম না বলে কাজল বলেছিলেন,
“তুমি শুধু ওর চোখটা দেখলেই বুঝতে পারবে…”
মেয়ের এমন রহস্যময় উত্তরে কিছুটা বিরক্ত হয়েই তনুজা জানতে চান, “কার চোখ?”
তখন কাজল অবশেষে নামটি বলেন—“ওর নাম অজয়… অজয় দেবগণ।”
নাম শুনে তনুজা অবাক হলেও চিনতে ভুল করেননি। তিনি বলেন, অজয় হচ্ছেন বিখ্যাত অ্যাকশন পরিচালক ও অভিনেতা বীরু দেবগণ-এর ছেলে। প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন—বাবা যেমন সুদর্শন ও প্রতিভাবান, ছেলেও তেমনই, বরং আরও আকর্ষণীয়।
কাজল নিজেও একাধিকবার জানিয়েছেন, একটি সিনেমার শুটিং সেটেই প্রথম তাদের পরিচয়। সেই পরিচয় থেকেই বন্ধুত্ব, আর বন্ধুত্ব থেকেই গড়ে ওঠে ভালোবাসা। তাদের সম্পর্কে বন্ধুত্বই ছিল সবচেয়ে শক্ত ভিত—যা আজও অটুট।
বিয়ের প্রসঙ্গে কাজল বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন—প্রতিটি সম্পর্কেই ওঠানামা থাকে। তবে একজন ভালো সঙ্গী প্রতিনিয়ত আপনাকে নতুনভাবে নিজেকে চিনতে সাহায্য করে, শেখায় এবং সমৃদ্ধ করে।
অন্যদিকে, অজয় দেবগণের ব্যক্তিগত জীবনের একটি মজার তথ্যও রয়েছে। তার প্রথম ছবি ফুল অউর কাঁটে মুক্তির আগেই তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করেন। জন্মনাম ছিল “বিশাল দেবগণ”। একই সময়ে আরেক “বিশাল” অভিনয়ে আসছিলেন বলে আলাদা পরিচিতি গড়তেই তিনি “অজয়” নামটি বেছে নেন। পরে ২০০৯ সালে নিজের পদবির বানানেও সামান্য পরিবর্তন আনেন।
আরও একটি মধুর স্মৃতি জড়িয়ে আছে তাদের বিয়েকে ঘিরে। বইপ্রেমী কাজল বিয়ের আগে একটি শর্ত দিয়েছিলেন—বাড়িতে একটি লাইব্রেরি থাকতে হবে। সেই শর্ত পূরণ করেছিলেন অজয়। এমনকি মধুচন্দ্রিমার উপহার হিসেবেই তিনি কাজলকে দেন সেই স্বপ্নের লাইব্রেরি।
সব মিলিয়ে, এই সম্পর্কের শুরুটা যেমন ছিল সরল ও আন্তরিক, তেমনি সময়ের সঙ্গে তা হয়ে উঠেছে আরও গভীর, পরিণত ও অনুপ্রেরণাদায়ক।