খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইসরায়েল ও ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে কার্যত যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি চরমে পৌঁছানোয় একের পর এক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ বা সীমিত করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ছেড়ে আসা অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল কিংবা ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জেদ্দায় আটকা পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।
ওমরাহ পালন শেষে দুবাই হয়ে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল তাঁর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকালে জেদ্দা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে এমিরেটসের ইকে ০৮০৬ নম্বর ফ্লাইটে যাত্রা শুরু করেন তিনি। কিন্তু আকাশপথে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে উড্ডয়নের কিছু সময় পরই ফ্লাইটটি পুনরায় জেদ্দায় ফিরে আসে। একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন আরও হাজারো যাত্রী।
নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মুশফিকুর রহিম জানান, কয়েক দিন আগে তিনি পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালন করতে যান। ওমরাহ সম্পন্ন করে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিলেও চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে যাত্রা বিঘ্নিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন এবং সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির প্রেক্ষাপটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ওই অঞ্চলের সব গন্তব্যে তাদের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। পাশাপাশি এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা রুট পরিবর্তন, বিলম্ব কিংবা ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। আকাশসীমা বন্ধ বা আংশিক নিয়ন্ত্রণে রেখেছে জর্ডান, ইরাক ও লেবাননও। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
নিম্নে বর্তমান পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| সামরিক উত্তেজনা | ইসরায়েল-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কা |
| আকাশপথ | জর্ডান, ইরাক, লেবাননে সাময়িক বন্ধ বা সীমিত |
| ফ্লাইট অবস্থা | বাতিল, বিলম্ব বা রুট পরিবর্তন |
| প্রভাবিত যাত্রী | হাজারো আন্তর্জাতিক যাত্রী |
| বাংলাদেশি নাগরিক | ওমরাহ যাত্রী ও প্রবাসীরা অনিশ্চয়তায় |
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এদিকে জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সহায়তা ও বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে কি না, তা অনিশ্চিত। ফলে মুশফিকুর রহিমসহ বহু বাংলাদেশি নাগরিক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছেন।
বর্তমান সংকট কেবল সামরিক নয়, বরং বেসামরিক যোগাযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রবাসী চলাচলেও গভীর প্রভাব ফেলছে—যা পুরো অঞ্চলকে এক অস্থির সময়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।