খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী দেশগুলো। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে তুরস্ক ও পাকিস্তান পৃথকভাবে প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করেছে। আঙ্কারা যেখানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেছে, ইসলামাবাদ সেখানে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গতকাল বুধবার আঙ্কারায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাকের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সিরিয়া পরিস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর উপায় নিয়েই এই আলোচনা আবর্তিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আগামী শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সরকারি সফরে তুরস্ক যাওয়ার কথা রয়েছে, যা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
নিচে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ প্রদান করা হলো:
সারণি: মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা নিরসনে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ
| সংশ্লিষ্ট দেশ | প্রতিনিধি/ব্যক্তিত্ব | প্রতিপক্ষ প্রতিনিধি | আলোচনার প্রধান দিক |
| তুরস্ক | হাকান ফিদান (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) | টম ব্যারাক (মার্কিন বিশেষ দূত) | আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সিরিয়া সংকট |
| পাকিস্তান | ইসহাক দার (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) | আব্বাস আরাগচি (ইরান) | দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ ও কূটনীতি |
| ইরান | আব্বাস আরাগচি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) | তুরস্ক সফর (প্রস্তাবিত) | কৌশলগত সম্পর্ক ও স্থিতিশীলতা |
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে পাকিস্তানও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তান জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। ইসহাক দার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয় বরং ‘আলোচনা ও কূটনীতিই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র কার্যকর পথ’।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে দুই নেতা নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন। মূলত গাজা ও সিরিয়া পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ যাতে সরাসরি সংঘাতে রূপ না নেয়, পাকিস্তান সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে।
তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই তৎপরতা নির্দেশ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই মুহূর্তে কোনো নতুন যুদ্ধ চায় না। বিশেষ করে তুরস্ক সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং শরণার্থী সংকটের কথা মাথায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ইরানের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যেকোনো অস্থিতিশীলতার সরাসরি প্রভাব এড়াতে তেহরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তুরস্ক সফরটি এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে, যেখানে হয়তো বড় কোনো সমঝোতার রূপরেখা তৈরি হবে।
বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ থাকলেও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা শান্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান কতটা নমনীয় হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই উদ্যোগের সাফল্য।