খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানী ঢাকা-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সক্রিয় করার লক্ষ্যে পুলিশ প্রধান, নতুন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সরাসরি রাস্তায় পরিদর্শনে বের হয়েছেন। মোহাম্মদপুর এলাকায় রাত্রীকালীন নিরাপত্তা তদারকির পর তিনি মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, “নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমি নিজেই রাস্তায় নেমেছি। অপরাধী যে-ই হোক, তাদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র একদিন পরই মধ্যরাতে নিরাপত্তা তদারকিতে বের হওয়া আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান এবং মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন।
আইজিপি মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন, যার মধ্যে রয়েছে:
জেনেভা ক্যাম্প
মোহাম্মদপুর টাউন হল
মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়
তিনি সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অবিলম্বে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন। পরিদর্শনের সময় আইজিপি জানান, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ ভীতির মধ্যে রয়েছে। তাই তিনি নিজেই রাত্রীকালীন টহলে বের হয়েছেন এবং পুলিশকে বিশেষ ব্লক রেইড পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইজিপি উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে তিনি নিজে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন মোহাম্মদপুর দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ এলাকা। এখানে অবৈধ ব্যবসা ও ফুটপাত-সড়ক দখলের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
আইজিপি শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে বলেন:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঢাকার জনসংখ্যা | প্রায় ৪ কোটি |
| দেশের মোট জনসংখ্যা | প্রায় ২০ কোটি |
| পুলিশের সদস্যসংখ্যা | প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার |
| নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ | কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ফুটপাত-সড়ক দখল |
| টহল ও ব্লক রেইড | রাত্রীকালীন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের প্রস্তুতি |
আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নাগরিকদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সবার জন্য আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাফিক বিভাগ পুনর্গঠনের কাজও চলছে এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের ঘরমুখী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নিজে রাতে টহল রাখবেন।
আইজিপি আরও বলেন, “আমি রাস্তায় থাকলে সহকর্মীরাও আরও সক্রিয় হবেন এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বাড়বে। সাধারণ মানুষ পুলিশের পাশে রয়েছে। হোয়াইট-কলার অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে আইন অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করা হবে।”
তিনি সতর্ক করেছেন, কার্যকর পুলিশিংয়ের জন্য বাহিনীর মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। পুলিশকে প্রকৃত অর্থে জনসেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ পোশাক পরিবর্তন বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন আইজিপি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও শহরের আইনশৃঙ্খলা দৃঢ় করতে সরাসরি কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছেন, যা শহরের সাধারণ মানুষের জন্য আশ্বস্তকর ভূমিকা হিসেবে ধরা হচ্ছে।