খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 31শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নদীতে নিখোঁজ হয়েছেন আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ময়মনসিংহ সদরে পুকুরে পড়ে একটি শিশু, নগরের ব্রাহ্মপল্লী রোডের ছয় তলা ভবন থেকে এক নারী, নান্দাইলে ফাঁসিতে ঝুলে আরেক নারী, ত্রিশালে এক গার্মেন্টসকর্মী এবং ভালুকায় এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গফরগাঁওয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবে এক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন।
সদর
ময়মনসিংহ নগরীতে বৃষ্টির সময় পুকুরে গোসল করতে নেমে আবু হুরায়রা (১১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাচিপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম।
একইদিন নগরীর ব্রাহ্মপল্লী রোডে অবস্থিত জারিফ হাসপাতালের ওপরে ছয় তলার আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১ নং পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আনিসুর রহমান সমকালকে জানান, ফরিদা ইয়াসমিন নামের ওই নারী ফ্লাটে একাই থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের নিজকল্পা এলাকায়। তার সন্তানেরা দেশের বাইরে থাকেন।
তিনি বেশ কয়েকদিন যাবত ঠান্ডা সর্দি ঝড়ে ভুগছিলেন। বুধবার বিকেলে তার বোনেরা এসে সাক্ষাৎ করে যান। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিনি আর ফোন রিসিভ করছিলেন না। অনেক ডাকাডাকির পর তার স্বজনরা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন দিলে সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়। পরে বাড়ির মালিক আত্মীয়-স্বজন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে খাটের ওপর তার লাশ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, নিহতের স্বজনেরা দাবি করেছেন অসুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন তারা।
ত্রিশাল
জেলার ত্রিশালে রতন চন্দ্র দাস (২৬) নামের এক পোশাক শ্রমিকের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কালীর বাজার রেললাইনের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রতন চন্দ্র উপজেলার নলছিড়ি গ্রামের মতিলাল চন্দ্র সাহার ছেলে। তিনি গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ বলেন, স্থানীয়দের খবর পেয়ে সকালে কালীর বাজার রেলক্রসিং সংলগ্ন ধানক্ষেত থেকে রতন চন্দ্র সাহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ট্রেন থেকে পড়লে মানুষ যেমন আঘাত পায়, ঠিক তেমনি তার একটি হাত ভাঙা এবং কপালের চামড়া উঠে গেছে। তার পকেটে থাকা আইডি দেখে জানা গেছে, তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।
ভালুকা
জেলার ভালুকায় তালগাছের মরাডাল কাটতে গিয়ে ফিরোজ মিয়া (৫৫) নামের এক শ্রমিকের গাছেই মৃত্যু হয়েছে। নিহত ফিরোজ উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামের মৃত গুঞ্জন আলী সরকারের ছেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে কাচিনা গ্রামের জয়নাল আবেদীন ওরফে বুলবুল তার পুকুর পাড়ের তাল গাছের ডাল পরিষ্কার করার জন্য দৈনিক চুক্তিতে ফিরোজ মিয়াকে কাজে লাগান। বেলা সাড়ে ১২টার সময় ফিরোজ মিয়া তালগাছে উঠে গাছের সাথে রশি দিয়ে নিজেকে বেঁধে ডাল কেটে পরিষ্কার শুরু করেন। হঠাৎ তাল গাছের কাটা ডালের একটি ঝোঁপ ফিরোজের মাথায় পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে গাছের ওপরেই ঝুলতে থাকেন। খবর পেয়ে ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় ফিরোজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।
ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনা স্থলে গিয়ে ফিরোজ মিয়ার মরদেহটি উদ্ধার করি। পরে ভালুকা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ভালুকা মডেল থানা উপপরিদর্শক ওয়াসিম জানান, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাল গাছের ডালের আঘাতে তিনি মারা যেতে পারেন।
নান্দাইল
জেলার নান্দাইলে বাঁশ ঝাড় থেকে আসমা খাতুন (৪৫) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় খারুয়া ইউনিয়নের হালিউড়া উত্তরপাড়া থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আসমা খাতুন ওই গ্রামের সাইদুল ইসলামের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আসমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বুধবার রাতের কোনো এক সময় পরিবারের অজান্তে বাড়ির পাশে বাঁশ ঝাড়ে নিজের ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস নেন তিনি। সকালে বাড়ির লোকজন আসমাকে ঝুলন্ত দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
গফরগাঁও
জেলার গফরগাঁও উপজেলায় নৌকা থেকে পড়ে সেলিম (৪২) নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ সেলিম ত্রিশাল উপজেলার মনোহর চিকনা গ্রামের রিয়া উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার ভালুকা থেকে জিয়ারতের উদ্দেশে নদীপথে ফরিদপুরে কেল্লা শাহের মাজার যাওয়ার সময় গফরগাঁওয়ের শীতলক্ষ্যা নদীতে ট্রলার থেকে পড়ে গিয়ে দুইজন নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এক জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে সেলিম।
খবর পেয়ে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল খোঁজাখুঁজি করেও সেলিমের সন্ধান পায়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেলিমকে খুঁজে বের করতে ফায়ার সার্ভিস অভিযান পরিচালনা করছেন।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীতে নিখোঁজ যুবকের সন্ধান এখনো মেলেনি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
খবরওয়ালা/এমইউ