রাজধানীর মহাখালীর আমতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে আশরাফুল (৩৮) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং এর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে আমতলীতে অবস্থিত ‘হোটেল জাহাদ’-এর পঞ্চম তলার ২০ নম্বর কক্ষ থেকে আশরাফুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তারা সংশ্লিষ্ট থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পায়।
ঘটনার পরপরই মরদেহটি উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করা হয় এবং পরদিন সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক উল্লেখ করেন, নিহত আশরাফুলের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার শিলাসী গ্রামে। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন এবং জীবিকার প্রয়োজনে রাজধানীতে অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, হোটেলের রেজিস্টারে আশরাফুল নিজের নাম-পরিচয় দিয়ে কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে তিনি একা ছিলেন নাকি কারও সঙ্গে এসেছিলেন, সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হোটেলের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যাতে ঘটনার আগে ও পরে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল কিনা তা জানা যায়।
এছাড়া, কক্ষে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা জোরপূর্বক প্রবেশের চিহ্ন পাওয়া গেছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও অন্য কোনো সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারী সংস্থা।
নিচে ঘটনাটির প্রাথমিক তথ্যসংবলিত একটি সারণি দেওয়া হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| নিহতের নাম |
আশরাফুল (৩৮) |
| পেশা |
কাঠমিস্ত্রি |
| স্থায়ী ঠিকানা |
শিলাসী গ্রাম, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ |
| ঘটনাস্থল |
হোটেল জাহাদ, আমতলী, মহাখালী |
| কক্ষ নম্বর |
২০ |
| উদ্ধার সময় |
রবিবার রাত প্রায় ১২টা |
| মরদেহের অবস্থা |
ঝুলন্ত |
| প্রাথমিক ধারণা |
আত্মহত্যা |
| বর্তমান অবস্থা |
ময়নাতদন্তাধীন, তদন্ত চলমান |
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, যদি কোনো অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।