খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৮ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দক্ষিণ হিরন গ্রামে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত এক যুবকের তাণ্ডবে তার বিধবা মায়ের বসতঘর পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে শহিদুল ইসলাম (২৫) নামের ওই যুবক মাদকসেবনের জন্য টাকা চেয়ে তার মা হেনয়ারা বেগমের কাছে গেলে, টাকা না দেওয়ায় ঘরের মধ্যে আগুন দেয় এবং পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই কাঠ ও টিনের তৈরি ঘরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করে আসছে। প্রতিদিনের মতো সে ওই রাতেও মাদক কেনার জন্য তার মা হেনয়ারা বেগমের কাছে টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় শহিদুল তার মাকে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। আশপাশের মানুষ আগুন নেভানোর জন্য এগিয়ে আসলেও ঘরটি মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যায়।
হেনয়ারা বেগম বলেন, “আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। টাকা দিতে না পারলে সে আমাকে মারধর করতো। সেই রাতেও টাকা দিতে পারিনি, তাই সে ঘরে আগুন দিয়েছে। আমি এখন কোথায় যাব, বাঁচব কীভাবে, বুঝতে পারছি না। আমার বড় ছেলে ওলিউল্লাহ ভারতে কাজে গিয়েছিল এবং ১০ বছর ধরে নিখোঁজ। ছয় মাস আগে স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এখন শুধু ছোট ছেলে শহিদুলের মাদকাসক্তি আমাকে ধ্বংস করেছে।”
প্রতিবেশী জামির আলী জানান, “শহিদুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। টাকা না দিলে সে মাকে মারধর করতো। আমরা আগুন নেভাতে দৌড়ে এসেছিলাম, কিন্তু ঘরটি তখন আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা চাই না এ ধরনের পরিস্থিতি আর কোনো পরিবারের জীবনে ঘটুক।”
ঘটনার ফলে হেনয়ারা বেগমের মাথা গোজাঁর ঠাঁইসহ বসতঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। বর্তমানে তিনি অস্থায়ীভাবে আত্মীয়দের বাড়িতে থাকছেন। তার মানসিক ও আর্থিক পরিস্থিতি খুবই দুর্বল।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘরদহনের স্থান | দক্ষিণ হিরন গ্রাম, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ |
| সময় | ১৭ মার্চ, রাতের দিকে |
| অভিযুক্ত | শহিদুল ইসলাম, বয়স ২৫ বছর |
| ক্ষতিগ্রস্ত | বসতঘর (কাঠ ও টিন), ব্যক্তিগত জিনিসপত্র |
| পরিবারের অবস্থা | বিধবা মা, নিখোঁজ বড় ছেলে, মারা যাওয়া স্বামী |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | প্রতিবেশীরা দুঃখ প্রকাশ ও মাদক প্রতিরোধের আহ্বান |
কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ জমা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হেনয়ারা বেগমের মতে, “আমার মাথা গোজাঁর ঠাঁই এখন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এত শোক কীভাবে সহ্য করব, জানি না। আর বাঁচার ইচ্ছা নেই।”
এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে সমাজে মাদকাসক্ত যুবকদের প্রভাব এবং পরিবারে সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তুলে ধরে।