খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে। মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর আদালতে দাখিল করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার জানিয়েছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলায় উল্লেখিত ‘আহতদের হদিস পাওয়া যায়নি’ এবং ‘তথ্যগত কিছু ভুল’ থাকার কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্তকালে দেখা গেছে, মামলার বাদী শরীফ এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার ভাই সাহেদ আলী ও ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তবে আহতদের পূর্ণ নাম, ঠিকানা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য না থাকার কারণে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পিবিআই কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঞাঁ বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আহতদের সরকারি গেজেটে নাম প্রকাশিত হয়নি। তাই তদন্তের ভিত্তিতে আমরা আহতদের তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছি। ভবিষ্যতে তথ্য পাওয়া গেলে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।”
মামলার প্রধান তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপ করা হলো:
| তথ্য বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| মামলা দায়ের | ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ধানমন্ডি থানা |
| ঘটনায় আহত | সাহেদ আলীসহ ৯ জন (নাম-জানা নেই) |
| মূল আসামি | শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহমুদ, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ও অন্যান্য, মোট ১১৩ জন |
| গ্রেপ্তারকৃত | শাকিল হোসেন ইমরান, কামরুল হাসান (কামু), মারুফ হোসেন, মাসুদ রানা বেপারী |
| তদন্ত সংস্থা | পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) |
| পরবর্তী শুনানি | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
পিবিআই জানায়, সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং আশপাশের হাসপাতালগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তবে কোনো আহত ব্যক্তি শনাক্ত করা যায়নি। এছাড়া, বাদী শরীফের হাজারীবাগের ভাড়া বাসায় নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি সেখানে থাকতেন না। শরীফের মোবাইল নম্বরও প্রায় সময় বন্ধ থাকত এবং হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ সীমিত ছিল। পরে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন স্থানে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন, কিন্তু আহতদের উপস্থিতি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেননি।
বাদী শরীফ বলেন, “মামলাটি করার পর থেকেই বিভিন্ন হুমকি ও চাপের মুখোমুখি হয়েছি। বিচার চাওয়াই কি অপরাধ?”
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উল্লেখিত আহতদের মধ্যে সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা, আইশ আক্তার ও সাম্মি আক্তারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তথ্য না পাওয়া এবং উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ১১৩ জনকে আপাতত মামলায় অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।