খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে পৌষ ১৪৩২ | ৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টেইনমায়ার মার্কিন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি কঠোরভাবে সমালোচনা করে বিশ্বকে সতর্ক করেছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে বার্লিনে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে তিনি বলেন, “বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের আচরণ বিশ্বব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এটি শুধু একটি দেশ নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য সংকটের আহ্বান।”
স্টেইনমায়ার বিশ্বের সম্প্রদায়কে নীতি এবং ন্যায়বিচারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি না যেখানে নীতিহীন শক্তি তাদের ইচ্ছামতো দেশ, সম্পদ বা জনগোষ্ঠীর উপর প্রভাব বিস্তার করবে। এই ধরনের ‘চোর-ডাকাতের আস্তানা’ বিশ্বব্যবস্থার জন্য ধ্বংসাত্মক।”
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে গণতন্ত্র নজিরবিহীন আক্রমণের মুখোমুখি। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ যেমন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা, এবং রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে তুলনা করে উল্লেখ করেছেন, যে এগুলো বিশ্বব্যবস্থার জন্য ‘ঐতিহাসিক ভাঙন’ হিসেবে চিহ্নিত।
স্টেইনমায়ারের মতে, যেসব দেশ বা অঞ্চলকে শক্তিধর রাষ্ট্ররা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করছে, সেই নীতি এখনই থামানো প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিশ্বকে আজ স্বাধীন, ন্যায়সংগত এবং বহুপাক্ষিক নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত করতে হবে।”
জার্মান প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত প্রতীকী হলেও, তার এই বক্তব্য দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সময়ে, একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে যে জার্মান নাগরিকদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ব্যাপকভাবে কমেছে। পাবলিক ব্রডকাস্টার এআরডি (ARD) পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী:
| বিষয় | ফলাফল |
|---|---|
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করে (%) | ২৪% |
| ফ্রান্সকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করে (%) | ৭৮% |
| ব্রিটেনকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করে (%) | ৭২% |
| ন্যাটোর প্রতি উদ্বেগ (%) | ৬৯% |
জরিপ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, জার্মান নাগরিকদের একাংশ মনে করেন যে ন্যাটোর সবচেয়ে শক্তিশালী সদস্য হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নাও হতে পারে। স্টেইনমায়ারের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গম্ভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশকে নীতি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।