খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে কবি ও সমাজকর্মী রেনে নিকোল গুড (৩৭) হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক সিটি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কিছু অঙ্গরাজ্যে সংঘর্ষও হয়েছে।
মিনিয়াপোলিসে বুধবার (৭ জানুয়ারি) হত্যার পর থেকেই টানা বিক্ষোভ চলছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষও ঘটে। জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানাচ্ছে, ঠান্ডা ও ঝোড়ো হাওয়াকে উপেক্ষা করে রোববারও হাজার হাজার মানুষ আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিরোধী স্লোগান এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।
রেনে গুডকে এক অভিবাসন কর্মকর্তা গুলি করে হত্যার ঘটনা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। পোর্টল্যান্ডে বৃহস্পতিবার এক হাসপাতালের বাইরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে দুই ভেনেজুয়েলান অভিবাসীর আহত হওয়ার ঘটনা এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, আইসিই ক্ষমতার অপব্যবহার ও সহিংসতার ধারাকে প্রকাশ করছে। তারা দেশজুড়ে ‘ICE Out For Good’ শীর্ষক এক হাজারেরও বেশি কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে জানান, বিক্ষোভের ‘অধিকাংশই শান্তিপূর্ণ’। তিনি হত্যার আগে ও পরে আইসিই সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। টেক্সাসের অস্টিনে এক সমাবেশে কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ক্যাসার বলেন, “আমরা হতাশায় বসে থাকতে পারি না, কিছু না করে থাকা যাবে না।” তিনি স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের সচিব ক্রিস্টি নোয়েমের পদত্যাগও দাবি করেন।
নোয়েম এ ঘটনার পর মন্তব্য করেছিলেন, হত্যাকাণ্ডটি আত্মরক্ষামূলক ছিল। হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, রেনে গুড একজন কর্মকর্তাকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাই গুলি চালানো হয়েছিল। তবে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গুডকে খুব কাছ থেকে তিনবার গুলি করা হয়।
মূল ঘটনা সংক্ষেপে:
| তারিখ | স্থান | ঘটনা |
|---|---|---|
| ৭ জানুয়ারি | মিনিয়াপোলিস | রেনে গুডকে আইসিই এজেন্ট গুলি করে হত্যা |
| ১০ জানুয়ারি | মিনিয়াপোলিস | কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশগ্রহণ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ |
| ৯-১০ জানুয়ারি | পোর্টল্যান্ড | সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে দুই ভেনেজুয়েলান অভিবাসী আহত |
| ১১ জানুয়ারি | টেক্সাস | কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ক্যাসারের সমাবেশ, নোয়েমের পদত্যাগ দাবি |
প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গত কর্মসূচি চালিয়ে নিহতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
এই হত্যাকাণ্ড ও বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, পুলিশের ক্ষমতার সীমা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের সঞ্চার করেছে।