খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গরের বাতু কেভস এলাকায় প্রায় ১৬ বছর ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ দুঃসহ পরিস্থিতিতে দিন কাটানো এক ইন্দোনেশীয় গৃহকর্মীকে অবশেষে উদ্ধার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ৫৬ বছর বয়সী ওই নারীকে খোঁজার সময় দেখা যায়, তিনি নিয়োগকর্তার নির্দেশে একটি গাড়ির নিচে লুকিয়ে ছিলেন—কর্তৃপক্ষ যেন তাকে দেখতে না পায়। দীর্ঘদিনের ভয়, চাপ আর আতঙ্কই তাকে এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে কোনো বৈধ নথি ছাড়াই গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। প্রতি মাসে ৬০০ রিঙ্গিত দেওয়ার কথা থাকলেও গত দুই বছরে কোনো টাকা পাননি। আর্থিক শোষণের পাশাপাশি নিয়মিত বকাঝকা ও শারীরিক নির্যাতন ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী।
তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা প্রায় শূন্য ছিল। নিজের পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখার অনুমতি ছিল না, মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল, এমনকি পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিশ্রাম বা ঘুমানোর সুযোগ মিলত যখন কেউ খেয়াল করত না—সেই ফাঁকে।
অভিযান শেষে ৫১ বছর বয়সী এক স্থানীয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন, ওই নারী তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তাদের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
ঘটনাটি এখন অ্যান্টি-ট্র্যাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং অব মাইগ্র্যান্টস অ্যাক্ট ২০০৭ (ATIPSOM Act 670)–এর আওতায় তদন্তাধীন। অভিযানে ইমিগ্রেশনের ATIPSOM প্রতিরোধ বিভাগ ও অর্থপাচারবিরোধী তদন্ত ইউনিট অংশ নেয়। মানবপাচারের শিকার চিহ্নিত করতে ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন অন হিউম্যান ট্রাফিকিং ইনডিকেটরস ২.০’ ব্যবহার করা হয়।
মানবিক এই অভিযানের বিষয়ে জাকারিয়া বলেন, মানবপাচার সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য তারা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বিদেশি শ্রমিক বা গৃহকর্মীদের শোষণ সংক্রান্ত তথ্য দিতে জনগণকে ০৩-৮৮৮০১৪৭১ নম্বরে অথবা ই-মেইলে (urusetia_p@imi.gov.my) যোগাযোগের আহ্বান জানান।
খবরওয়ালা/টিএসএন