খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর ও ঢাকার কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আন্তজেলা অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ব্যাটারিচালিত ছয়টি অটোরিকশা, দুটি অটোরিকশার চেসিস এবং একটি মাইক্রোনেক্স ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ঢাকার শ্যামপুর থানার দোলাইরপাড়ের রুবেল ওরফে আব্দুল্লাহ (৩২), নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলাদরগা গ্রামের মো. জামাল হোসেন (৪০), কেরানীগঞ্জ উপজেলার রামেরকান্দা গ্রামের মো. সুমন (৩৮), দোহার উপজেলার আওরঙ্গবাদ গ্রামের ইমরান হোসেন ওরফে মোফাজ্জল (৪৫), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার দেউলভোগ গ্রামের মো. হৃদয় শেখ (২৫), ভাগ্যকুল মান্দ্রা গ্রামের পলাশ পাঠান (৩৫) এবং কামারগাঁও গ্রামের মো. বিধান (৪৭)।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে জেলার সিরাজদিখান উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রাম থেকে চালককে চেতনানাশক মিশ্রিত বিস্কুট খাইয়ে একটি ইজিবাইক ছিনতাই করে চক্রের তিন সদস্য। খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান শুরু করে।
এরপর ১০ আগস্ট সকালে ইজিবাইকচালক আলম শেখের তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীনগরের পাটাভোগ ফেরিঘাটের আন্ডারপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবেল, জামাল ও ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে বিকেলে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হৃদয়, পলাশ ও বিধানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি অটোরিকশা, দুটি চেসিস ও একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়। পরে কেরানীগঞ্জের রামেরকান্দা এলাকার একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে আরও চারটি অটোরিকশা উদ্ধার এবং গ্যারেজ মালিক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা ও আহত করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁরা সাধারণত যাত্রীবেশে ইজিবাইকে চড়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সুবিধামতো স্থানে গিয়ে খাওয়াদাওয়ার ফাঁকে চালককে বিষ মাখানো খাবার বা পানীয় খাইয়ে অজ্ঞান করেন। চালক রাজি না হলে তাঁকে মারধর বা হত্যা করে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যান। পরে চক্রের গ্যারেজে নিয়ে চেসিস ও বডি আলাদা করে বডির রং পরিবর্তন করেন, যাতে সহজে চেনা না যায়।
খবরওয়ালা/এসআই