খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বেসরকারি বিনিয়োগ ও ভোগব্যয়ের সংকোচনের প্রভাবে চলতি বছরের জুন মাসে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ ভয়াবহভাবে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই মাসে এলসি খোলা হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের, যা গত অর্থবছরের জুনের তুলনায় ২৪ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। গত ৫৮ মাসে এটি সর্বনিম্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি শেষবার দেখা গিয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির সময়েও, তবে এবার সংকট আরও গভীর। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের আগস্টে সর্বশেষ এত কম এলসি খোলা হয়েছিল ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের।
এক বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমদানিকারকদের মতে, পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নও খুব ধীর গতিতে চলছে। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এলসি কমা মানে রাজস্ব আয়, ব্যাংক খাতের আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি সবই হ্রাস পাওয়া। এটি দীর্ঘমেয়াদে স্থবিরতার ইঙ্গিত দেয়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধজুড়েই এলসি খোলার হার কমেছে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, পেট্রোলিয়াম ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে, জুনে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ কম। কোভিড-১৯ কালে, ২০২০ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ এত কম নিষ্পত্তি হয়েছিল ৪ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।
তবে অর্থবছরজুড়ে নিষ্পত্তির চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৯ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি।
জুনে আমদানি হ্রাসের ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। এর ফলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই ডলারের দর এক সপ্তাহে প্রায় ৩ টাকা কমে ১২০ টাকায় নেমে আসে।
ডলারের দরপতন ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে। ১৩ জুলাই নিলামের মাধ্যমে ১২১ দশমিক ৫০ টাকা দরে প্রথম দফায় ১৭৩ মিলিয়ন ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরবর্তীতে আরও দুটি নিলামে মোট ৩৮৩ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়। এসব পদক্ষেপের পর ডলারের দরপতন থেমে গিয়ে আবার বাড়তে শুরু করে। রোববার (২৭ জুলাই) আন্তঃব্যাংক ও রেমিট্যান্স বাজারে ডলারের দাম দাঁড়ায় ১২২ দশমিক ৫০ থেকে ১২২ দশমিক ৮৩ টাকায়।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি কমা, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে স্থবিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
এক ব্যাংক কর্মকর্তার ভাষায়, ‘বর্তমানে নতুন করে মূলধনী যন্ত্রপাতি বা কাঁচামাল আমদানির প্রয়োজন পড়ছে না। এখন যে অল্প পরিমাণ আমদানি হচ্ছে, তার বড় অংশই নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের।’
খবরওয়ালা/এমএজেড