খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫
অফিসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে একদিন আগে নিখোঁজ হওয়া সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার মরদেহ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়। আজ শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ঢাকায় নিয়ে আসবেন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে বিভুরঞ্জন সরকারের ছেলে ঋত সরকার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে বাবার মরদেহ ঢাকায় আনা হবে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে বিভুরঞ্জনের ছেলে ঋত সরকার ও ভাই চিররঞ্জন সরকার মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
৭১ বছর বয়সী এই সাংবাদিক দৈনিক আজকের পত্রিকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তিনি রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রাতেই পরিবার রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
পরের দিন শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বলাকির চর এলাকার মেঘনা নদী থেকে বিভুরঞ্জন সরকারের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালেহ আহমেদ পাঠান জানান, স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
বিভুরঞ্জন সরকারের ছেলে ঋত সরকার জিডিতে উল্লেখ করেন, তার বাবা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। বিকেল ৫টার মধ্যে তার বাসায় ফেরার কথা ছিল, কিন্তু তিনি ফেরেননি। তার মোবাইল ফোনটি বাসায় রাখা ছিল।
এদিকে, একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘খোলা চিঠি’ শিরোনামে বিভুরঞ্জন সরকারের একটি লেখা প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টায় তিনি চিঠিটি ই-মেইল করেছিলেন এবং ফুটনোটে লিখেছিলেন, ‘জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন’। ওই লেখায় তিনি তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের নানা ঘটনা, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও গণমাধ্যম পরিস্থিতি, নিজের ও ছেলের অসুস্থতা, মেয়ের পরীক্ষায় ফেল করা, বুয়েট থেকে পাস করা ছেলের চাকরি না হওয়া এবং নিজের আর্থিক দৈন্য নিয়ে হতাশার কথা প্রকাশ করেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন