মেসির জাদুতে শীর্ষে উঠল ইন্টার মায়ামি

লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই শব্দটা যেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া অভিধানে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে—‘মেসি–ম্যানিয়া’। শুরুতে অনেকে ভেবেছিলেন, উন্মাদনাটা থাকবে স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর জার্সির দোকান পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার হয়েছে—মেসির প্রভাব কেবল মাঠে গোল-অ্যাসিস্টে নয়, ক্লাবের আর্থিক মানচিত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এমনকি সহ-মালিক ডেভিড বেকহামও হয়তো এই গতি-ঝড়ের পরিমাপ আগে থেকে আঁচ করতে পারেননি।

মেসির আগমনে যুক্তরাষ্ট্রে ‘সকার’ রাতারাতি হয়ে উঠেছে বড় বিনোদনের অনুষঙ্গ। ম্যাচডে মানেই তারকাদের ভিড়—হলিউড অভিনেতা, সংগীতশিল্পী, ক্রীড়া জগতের কিংবদন্তিরা নিয়মিত হাজির হচ্ছেন গ্যালারিতে। টিকিটের চাহিদা, মার্চেন্ডাইজ বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব—সবখানেই উল্লম্ফন। মাঠের বাইরের এই অর্থনৈতিক জোয়ার মাঠের সাফল্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। যে ইন্টার মায়ামি একসময় ট্রফির স্বাদই পায়নি, মেসির নেতৃত্বে আড়াই বছরে তারা তিনটি শিরোপা জিতেছে—এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ। জয় আর ব্র্যান্ড-মূল্য—দুটোই সমান্তরালে বেড়েছে।

ক্রীড়া অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা স্পোর্তিকোর সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, ২০২৬ মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে ইন্টার মায়ামির আনুমানিক বাজারমূল্য দাঁড়াবে ১৪৫ কোটি ডলার—বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবার এমএলএসের ৩০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান ক্লাব হয়ে উঠল ‘দ্য হেরনস’। এত দিন শীর্ষে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি নেমে গেছে দুইয়ে (১৪০ কোটি ডলার)। গত এক বছরে মায়ামির মূল্য বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ, যেখানে এলএএফসির প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ—এই ব্যবধানই অবস্থান বদলের মূল কারণ।

এই উত্থানের পেছনে শুধু মেসির জাদু নয়—ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৬ সালে নতুন স্টেডিয়াম উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। আধুনিক অবকাঠামো, কর্পোরেট বক্স, ভিআইপি অভিজ্ঞতা ও বাণিজ্যিক স্পেস—সব মিলিয়ে ক্লাবের সম্পদে যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রা। পাশাপাশি যুব একাডেমি, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও বৈশ্বিক বিপণনে আগ্রাসী কৌশল ইন্টার মায়ামিকে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্ত ভিত দিচ্ছে।

এমএলএসে শীর্ষ মূল্যবান ক্লাব (স্পোর্তিকো)

অবস্থান ক্লাব আনুমানিক মূল্য (ডলার)
১ ইন্টার মায়ামি ১.৪৫ বিলিয়ন
২ লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি ১.৪০ বিলিয়ন
৩ লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি ১.১৭ বিলিয়ন
৪ আটলান্টা ইউনাইটেড ১.১৪ বিলিয়ন
৫ নিউইয়র্ক সিটি এফসি ১.১২ বিলিয়ন

সব মিলিয়ে এমএলএসের ৩০টি ক্লাবের গড় মূল্য এখন ৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০২১ সালে স্পোর্তিকো প্রথম এই মূল্যায়ন শুরু করার পর থেকে গড়ে মূল্য বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। লিগের মোট সম্মিলিত সম্পদ ছুঁয়েছে আনুমানিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। তবু এনএফএল বা এনবিএর মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ লিগগুলোর তুলনায় এমএলএস এখনো অনেক পিছিয়ে। বড় পাঁচ লিগের ১৫৪ দলের তালিকায় ইন্টার মায়ামির অবস্থান ১১৬তম; সেখানে শীর্ষে থাকা ডালাস কাউবয়েসের মূল্য প্রায় ১২.৮ বিলিয়ন ডলার, আর এনবিএর গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সের প্রায় ১১.৩৩ বিলিয়ন ডলার।

সব হিসাব শেষে এবার মাঠের গল্প শুরু। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে ২০২৬ এমএলএস মৌসুমের, উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হবে লিগের দুই ‘ধনী’ ক্লাব—লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির মাঠে আতিথ্য নেবে মেসির ইন্টার মায়ামি। মেসি–ম্যানিয়ার আরেক অধ্যায় যে সেদিন থেকেই নতুন করে লেখা শুরু হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।