অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৮ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের দাম্পত্য কলহ দীর্ঘদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে আসছে। সম্প্রতি নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি এসেছেন। গতকাল হিরো আলম তৃতীয় স্ত্রী রিয়া মনিকে মৌখিকভাবে তিন তালাকের ঘোষণা দিলে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।
এর আগে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর আফতাবনগরে রিয়া মনির বাসার কাছে হিরো আলম হামলার শিকার হন। এরপর থেকে হিরো আলম তার দাম্পত্যজীবন নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে আসছিলেন।
তবে প্রশ্ন উঠেছে – মৌখিক তালাক বা তিন তালাক কি আইনত বৈধ?
মৌখিক তিন তালাক আইনত বৈধ নয়
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, তিন তালাক উচ্চারণের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ বৈধ নয়। আইন বিশেষজ্ঞ মিতি সানজানা বলেন, বিয়ের নিবন্ধন হয়ে থাকলে সেই বিয়ের মৌখিকভাবে তালাক আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আইন না মেনে তালাক দিলে সেটি বৈধ হবে না। তবে কেউ যদি আইন মেনে তালাক দিতে চান, সেক্ষেত্রে এক পক্ষ তালাক দিতে না চাইলেও তা কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো পক্ষ যদি আইনের মাধ্যমে একটি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায় তাহলে কোনও কারণ দেখানোরও প্রয়োজন নেই। পারস্পরিক বনিবনা হচ্ছে না, এই কারণ দেখিয়েও কেউ তালাক দিতে পারবে।
বাংলাদেশের ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী যেকেউ চাইলেই বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারে। তবে এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে।
আইন অনুযায়ী, কেউ তালাক দিতে চাইলে তাকে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। মিতি সানজানা বলেন, তালাক দিতে চাইলে যে কেউ যে কোনো পদ্ধতিতে তালাক ঘোষণা করতে পারেন। এরপর যাকে তালাক দেওয়া হচ্ছে, তাকে এবং তাদের এলাকায় স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নোটিশ দিতে হবে।
নোটিশ ডাকযোগে বা সরাসরি হস্তান্তরের মাধ্যমে পাঠানো যেতে পারে। নোটিশ প্রেরণের পর ৯০ দিনের মধ্যে তালাক কার্যকর হয়। এই সময়ে এক সালিশি পরিষদ গঠন করা হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। এই ৯০ দিনের সময়কে ইদ্দতকাল বলা হয়।
ইদ্দতকালের মধ্যে যদি দুই পক্ষই রাজি থাকেন, তবে তারা সমঝোতার মাধ্যমে তালাক তুলে নিতে পারেন। তবে ৯০ দিনের মধ্যে সালিশি পরিষদ উদ্যোগ না নিলে তালাক কার্যকর হবে। স্ত্রী যদি গর্ভবতী থাকেন, তাহলে প্রসব ও ইদ্দতকালের পর তালাক কার্যকর হবে।
তালাক কার্যকর হওয়ার পর, তালাক যিনি দিয়েছেন বা না দিয়েছেন, যেই কাজী অফিসের মাধ্যমে তালাকের নোটিশ সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে তালাক নিবন্ধন করাতে হবে।
‘তিন তালাক’ প্রাপ্তদের আইনি সহায়তা
বাংলাদেশে তিন তালাকের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা প্রদানের কথাও বলা হয়। তবে প্রথমে দেখা হয় যে বিয়েটি নিবন্ধিত কি না এবং বিয়ে সংক্রান্ত দলিল আদালতে উপস্থাপনযোগ্য কি না।
১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, দেশের সব মুসলিম নাগরিকের বিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। একইভাবে, তালাকও নিবন্ধন করতে হয়।
মিতি সানজানা বলেন, যেসব বিয়ের নিবন্ধন নেই, সেক্ষেত্রে নানা জটিলতা দেখা দেয়। কারণ যে বিয়েই প্রমাণ করা যায় না, তার তালাকের বিষয়েও সমস্যা হয়। মৌখিক তালাকের মাধ্যমে সম্পর্ক থেকে বের হওয়া যেতে পারে, যদি অপর পক্ষ আদালতে বিয়ের প্রমাণ দিতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, আইন মেনে তালাক না দিলে, সেই তালাক আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকে। এছাড়া, বিয়ের সময় যে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি যদি বিয়ের সময় আদায় করা না হয়, তবে স্ত্রী তালাকের সময় তা দাবি করতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী সেটি পরিশোধ করতে হবে।
খবরওয়ালা/শরিফ