নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: 28শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ১২ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে তৃতীয় ধাপে বাদ পড়া শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় ধাপে বাদ পড়া শিক্ষকদের ওপর পুলিশ জলকামান ও লাঠিচার্জ করা হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন তারা। দীর্ঘদিনেও দাবি আদায়ের বিষয়ে ন্যূনতম আশ্বাস না পাওয়ায় তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু আগে থেকেই কদম ফোয়ারা মোড়ে সতর্ক অবস্থায় ছিল পুলিশ। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের মিছিলটি কদম ফোয়ারা কাছাকাছি এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে, এতজনকে একসঙ্গে নিয়ে বাসভবনের সামনে যাওয়া সুযোগ নেই। আপনারা চাইলে কয়েকজন প্রতিনিধি মিলে সেখানে যেতে পারেন। কিন্তু তারা রাজি হননি।
পরে বাধা উপেক্ষা করে তারা সামনের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ করে। তাতেও ফেরানো যায়নি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের। পরে পুলিশ বাধ্য হয়ে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ উদ্দিন বলেন, বৈষম্যের শিকার হচ্ছে সারা বাংলাদেশের তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া চলমান যোগ্য বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠির দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা অবস্থান করছি। ২০১৩ সালে সারা বাংলাদেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও সমযোগ্যতা থাকার পরেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সারা বাংলাদেশের চলমান যোগ্য ৪ হাজারের অধিক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে যায়। এরই সঙ্গে প্রায় ৮ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী তাদের মৌলিক অধিকার হতে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৫ সাল থেকে আমরা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২০১৮ সালে ১৮ দিন, ২০১৯ সালে ৫৬ দিন, ২০২৪ সালে ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছি। ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি আন্দোলনের ফলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে একটি চিঠি মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা হয়। এই চিঠি দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের এডিসি মীর আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিক্ষকদের আমরা অনেকবার বুঝিয়েছিলাম, আমাদের ডিসি মহোদয় ছিলেন। তাঁদের বলা হয়েছে, তাঁরা একটি প্রতিনিধি দল ঠিক করবেন, তাঁদের মূল বার্তা স্মারকলিপি আকারে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেওয়া হবে। তাঁরা এটাতে রাজি হয়েছিলেন। তারপর কথা ছিল তাঁরা মোড় পর্যন্ত যাবেন, আবার ঘুরে আসবেন। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে রেখেছিলেন, যান চলাচল আটকে রেখেছিলেন। অনেকবার বলার পরও তাঁরা কথা শোনেননি। যেহেতু রমজান মাস, রাস্তা ব্লক থাকায় অনেকের কষ্ট হচ্ছিল। তখন তাঁদের আস্তে আস্তে ঠেলে আমরা রাস্তার পাশে সরিয়ে দিই। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা পানি নিক্ষেপ করেছি।’
খবরওয়ালা/আরডি