খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যাঁরা দক্ষিণে যেতে চান, তাঁরা দ্রুত সরে যান। যাঁরা যাবেন না, তাঁদের সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। এদিকে, প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের ইতি টানতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে হামাস।
গতকাল বুধবার(১ অক্টোবর)গাজার প্রধান শহরের বাসিন্দাদের জন্য চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে দখলদার ইসরায়েল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, গাজা শহরে তীব্র বোমাবর্ষণের খবর দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, সেনারা শহর ঘিরে অবরোধ আরও কঠোর করছে।
কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এটা গাজার (সিটির) বাসিন্দাদের জন্য শেষ সুযোগ, যাঁরা যেতে চান, তাঁরা দক্ষিণে চলে যান। হামাস যোদ্ধাদের গাজা শহরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখে দিন।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, যাঁরা গাজা শহরে থেকে যাবেন, তাঁদের ‘সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাস সমর্থক’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
কাৎজ আরও জানান, সেনারা নেতজারিম করিডর দখল করেছে। এর মাধ্যমে মধ্য গাজা থেকে পশ্চিম উপকূলের পথ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ফলে গাজার উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। দক্ষিণে যেতে চাইলে এখন থেকে গাজা শহরের মানুষকে ইসরায়েলি সেনাদের তল্লাশি চৌকি পেরোতে হবে। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলি সেনারা জানায়, দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাওয়ার শেষ পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গাজা শহরে আল-শিফা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া ৬০ বছর বয়সি রবাহ আল-হালাবি টেলিফোনে বলেন, চারপাশে একটানা বিস্ফোরণ চলছে। তিনি বলেন, ‘আমি শহর ছাড়ব না। কারণ গাজার দক্ষিণ অংশও সমান বিপজ্জনক। বোমাবর্ষণ সর্বত্র চলছে। আর গৃহচ্যুতি ভীতিকর ও অপমানজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেবল মৃত্যুর অপেক্ষা করছি। হয়তো ঈশ্বরের কাছ থেকে কোনো সান্ত্বনা আসবে কিংবা যুদ্ধবিরতি হবে।’ হামাস কাৎজের এই বক্তব্যকে যুদ্ধাপরাধ বাড়ানোর পূর্বাভাস হিসেবে বর্ণনা করেছে।
খবরওয়ালা/এফএস