খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৩ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
মার্কিন বাজারের শুল্ক বৃদ্ধি গার্মেন্টস খাতকে দিশেহারা অবস্থায় ফেলেছে, যা প্রভাব ফেলছে লাখো শ্রমিক ও রপ্তানিকারকদের উপর।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ঘোষিত ৩৫ শতাংশ বাড়তি শুল্কের কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। শুল্কের এই অতিরিক্ত ভাড়ার একটি বড় অংশ রপ্তানিকারকদের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন মার্কিন ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা, যা রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মার্কিন ক্রেতারা রপ্তানিকারকদের কাছে জানতে চাইছেন, শুল্ক যদি ৩৫ শতাংশ বহাল থাকে বা কমিয়ে ৩০, ২৫, কিংবা ২০ শতাংশ হয়, তাহলে তারা কত ভাগ শুল্ক বহন করতে রাজি। এই বিষয় নিয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ের আলোচনার মধ্যেই মার্কিন ব্র্যান্ডগুলো রপ্তানিকারকদের সঙ্গে দরকষাকষি করছে। অনেক রপ্তানিকারক এই ধরনের চাপ মেনে নিতে নারাজ বলে জানাচ্ছেন।
বর্তমানে মার্কিন বাজারের জন্য প্রস্তুত পোশাকের পাইপলাইনে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের মূল্যমানের পণ্য আটকে রয়েছে। নতুন রপ্তানি আদেশ স্থগিত হওয়ায় কারখানাগুলো ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে এমন প্রায় ১৩২২টি কারখানা সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকশ কারখানা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। এসব কারখানায় গড়ে এক হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করে থাকেন, যারা এই সংকটের ফলে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি শুল্ক প্রয়োগ যদি বাস্তবায়িত হয় এবং অন্যান্য দেশের যেমন ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান শুল্ক হার কম থাকে, তাহলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত বড় ধরনের প্রতিযোগিতামূলক অগ্রাধিকার হারাবে। যা হাজার হাজার কারখানা ও শ্রমিকের জন্য সংকট তৈরি করবে।”
বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে মার্কিন বাজারে তাদের পণ্যের অবস্থান রক্ষা করার জন্য। অন্যথায় গার্মেন্টস খাতের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং কর্মসংস্থান হ্রাস নিশ্চিত বলে তারা মনে করছেন।
খবরওয়ালা/আশ