খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৩ পিএম
যুক্তরাজ্য সরকার শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তে অটল থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশীয় আদালতগুলো ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছে এবং এটি বহাল থাকবে।
শামীমা বেগম ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক স্টেট (আইএস) নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে পাড়ি দেন। সেখানে তিনি এক আইএস যোদ্ধার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে ২৬ বছর বয়সী শামীমার তিনটি সন্তান হয়েছে, তবে কেউ বেঁচে নেই।
যুক্তরাজ্য সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিলের পেছনে মূল যুক্তি হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি উল্লেখ করেছে। তবে শামীমার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাকে যৌন নির্যাতন ও পাচারের শিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। আইনজীবী গ্যারেথ পিয়ার্স বলেন, “১৫ বছর বয়সী একটি শিশু প্রলুব্ধ ও বাড়ি থেকে জঙ্গি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না।”
ইসিএইচআর-এর কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে চেয়েছে, শামীমার নাগরিকত্ব বাতিলের সময় তৎকালীন মন্ত্রীরা কি তার পাচারের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাজ্যের দায়বদ্ধতা বিবেচনা করেছেন কি না।
চলতি মাসের শুরুতে ইসিএইচআর একটি নথিতে উল্লেখ করেছে, শামীমা বেগম ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট শামীমাকে সুপ্রিম কোর্টে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ না দেয়ার রায় দেন।
শরণার্থীশিবিরে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে একটি ট্রাইব্যুনাল শামীমাকে “বংশসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হলেও তিনি রাষ্ট্রহীন হবেন না।
শামীমা বেগমের জীবন ও আইনগত তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জন্মস্থান | লন্ডন, যুক্তরাজ্য |
| বয়স | ২৬ বছর |
| নাগরিকত্ব | ব্রিটিশ (বাতিল), বাংলাদেশি (বংশসূত্রে) |
| ২০১৫ সালে গমন | সিরিয়া, আইএস নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল |
| বিবাহ | আইএস যোদ্ধার সঙ্গে |
| সন্তান | ৩ (কেউ বেঁচে নেই) |
| আদালতের রায় | ট্রাইব্যুনাল: বাংলাদেশি নাগরিক, সুপ্রিম কোর্ট: চ্যালেঞ্জ অনুমোদিত নয় |
| ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত | পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে |
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবসময় দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে আমরা সকল আদালতে বজায় রাখব।”
শামীমার আইনজীবীর যুক্তি অনুযায়ী, শিশু হিসেবে তাকে আইএসআইএল এলাকায় পাঠানোর ঘটনা এবং সুরক্ষা ব্যর্থতার দীর্ঘ তালিকা উপেক্ষা করা যায় না। এই মামলার নিষ্পত্তি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে সুনির্দিষ্ট সীমারেখা নিয়ে তর্ক সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য