খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় কূটনৈতিক সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই আলোচনার টেবিলে ফেরার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসন তেহরানের ওপর নতুন দুটি শর্ত আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই এই আলোচনা শুরু হতে পারে। তার দাবি অনুযায়ী, তেহরানের পক্ষ থেকে উপযুক্ত প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তারা একটি অর্থবহ সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়:
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচল: ওয়াশিংটন চায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি এবং কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই উন্মুক্ত রাখা হোক। এখানে যুক্তরাষ্ট্র ‘পারস্পরিকতা’ (Reciprocity) নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে। এর অর্থ হলো, ইরান যদি এই প্রণালিতে জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে ইরানকেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে এবং তাদের নিজস্ব জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
প্রতিনিধিদলের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও আইআরজিসি-র অনুমোদন: যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শর্তটি মূলত রাজনৈতিক বৈধতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে। মার্কিন প্রশাসন চায়, আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ইরানি প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পূর্ণ অনুমোদন প্রাপ্ত হতে হবে। এর লক্ষ্য হলো ইসলামাবাদে বা পরবর্তী যেকোনো স্থানে হওয়া সমঝোতা যেন ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তার সম্মতিতে হয় এবং তা কার্যকর করার পূর্ণ নিশ্চয়তা থাকে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সূত্রপাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা ৪০ দিনের তীব্র সংঘাতের পর, গত ৭ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
নিচে আলোচনার প্রস্তাবিত শর্ত ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ প্রদান করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| প্রধান শর্ত ১ | হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক ও বাধাহীন রাখা। |
| প্রধান শর্ত ২ | প্রতিনিধিদলকে আইআরজিসি-র অনুমোদনসহ পূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান। |
| মার্কিন অবস্থান | ‘পারস্পরিকতা’ নীতি বাস্তবায়ন এবং দুই দিনের মধ্যে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব। |
| ইরানের প্রতিক্রিয়া | আলোচনার দাবি নাকচ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থাহীনতার পুনর্ব্যক্ত। |
| সামরিক প্রেক্ষাপট | ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪০ দিনের সংঘাত এবং ৭ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি। |
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ইরান এখন পর্যন্ত এই দুই শর্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। বরং তেহরান আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার মনে করে না। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবারই উল্লেখ করেছে যে, পূর্ববর্তী চুক্তিগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া তাদের আস্থাহীনতার অন্যতম প্রধান কারণ।
১৪ দিনের এই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই যদি কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা বা আলোচনার পরিবেশ তৈরি না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো স্পর্শকাতর জলপথের নিরাপত্তা এখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপ অব্যাহত থাকায় ইরান কূটনৈতিক পথে হাঁটবে নাকি সামরিক কৌশলে অটল থাকবে, তা পরবর্তী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে।