খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান দেশের অন্তত নয়টি হাসপাতালে ব্যাপক ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। এই তথ্য জানিয়েছেন ইরানের সংসদের স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদ বেইগি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।
মোহাম্মদ বেইগি জানান, হামলার শিকার হাসপাতালগুলোর মধ্যে পাঁচটি রাজধানী তেহরানে এবং বাকি চারটি অন্যান্য শহরে অবস্থিত। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে খালি করা হয়েছে। হাসপাতালটির সব রোগীকে নিরাপত্তার কারণে অন্য চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বেইগি বলেন, এই পদক্ষেপ নেওয়ার মূল কারণ হলো মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেইগি আরও বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোতে এই ধরনের হামলা দেশের সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে তেহরানের হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে এবং রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।”
হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল ও তাদের অবস্থান নিম্নরূপ:
| হাসপাতালের নাম | শহর | ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা | রোগী স্থানান্তর |
|---|---|---|---|
| গান্ধী হাসপাতাল | তেহরান | সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত | সকল রোগী স্থানান্তর |
| আলি সীন হাসপাতাল | তেহরান | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | সীমিত স্থানান্তর |
| নওর হাসপাতাল | তেহরান | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | সীমিত স্থানান্তর |
| ইরান মেডিকেল সেন্টার | তেহরান | গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত | আংশিক স্থানান্তর |
| শহীদ বেহেশতি হাসপাতাল | তেহরান | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | আংশিক স্থানান্তর |
| আহওয়াজ হাসপাতাল | আহওয়াজ | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | সীমিত স্থানান্তর |
| ইসফাহান মেডিকেল সেন্টার | ইসফাহান | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | সীমিত স্থানান্তর |
| মাজান শহীদ হাসপাতাল | মাজান | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | সীমিত স্থানান্তর |
| তাবরিজ কেন্দ্রীয় হাসপাতাল | তাবরিজ | আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত | সীমিত স্থানান্তর |
বেইগি আরও সতর্ক করেছেন যে, এই হামলা ইরানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার জন্য গুরুতর হুমকি স্বরূপ। তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি বলেন, ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও নিরাপদে রাখতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক হামলার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে তেহরানের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম বিঘ্নিত হলে বিপুল সংখ্যক রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।
এই হামলা ইরানের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও চিকিৎসা পরিকাঠামোর জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, যা দ্রুত মোকাবেলার জন্য সরকারের তৎপরতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।