খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকা থেকে অন্তত তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শিপিং ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সূত্রে জানা যায়, ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার উপকূলবর্তী জলসীমা থেকে জাহাজগুলো আটক করা হয় এবং তাদের নির্ধারিত গন্তব্য পরিবর্তন করে অন্যদিকে নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের বিভিন্ন বন্দরকে কেন্দ্র করে সমুদ্রপথে তেহরানের বাণিজ্য কার্যক্রমের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করেছে। এর আগে ওই কৌশলগত প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছিল, যা অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত। এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রায় দুই মাস পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বরং সাম্প্রতিক জাহাজ আটক ও সামরিক তৎপরতার ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
মার্কিন ও ভারতীয় শিপিং সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা তিনটি ট্যাংকারের মধ্যে একটি বৃহৎ জাহাজ রয়েছে, যার নাম “ডিপ সি”। এটি প্রায় এক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়া উপকূল থেকে নিখোঁজ হয়। অন্য দুটি জাহাজের নাম “সেভিন” এবং “ডোরেনা”। “ডোরেনা” জাহাজটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছিল এবং এটি ভারত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছিল বলে জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানায়, অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করায় “ডোরেনা” বর্তমানে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নজরদারিতে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। তারা আরও জানায়, অবরোধ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৯টি জাহাজকে তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করে বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় দুটি কনটেইনার জাহাজ আটক করেছে। চলমান সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যে এটি ইরানের পক্ষ থেকে জাহাজ আটক করার প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর ও সংলগ্ন সমুদ্রপথে সামরিক ও নিরাপত্তা তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের অবরোধ, নজরদারি এবং জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
| জাহাজের নাম | ধরন | অবস্থান | বহনকৃত পণ্য | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| ডিপ সি | বৃহৎ তেলবাহী জাহাজ | মালয়েশিয়া উপকূল | নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি | নিখোঁজ অবস্থা থেকে জব্দ |
| সেভিন | তেলবাহী জাহাজ | নির্দিষ্ট নয় | নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি | জব্দকৃত |
| ডোরেনা | তেলবাহী জাহাজ | ভারত উপকূলের কাছাকাছি | প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল | মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নজরদারিতে |