খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলার ফলে নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে প্রধান দুই পক্ষ ছিল গোয়ালনগর ইউনিয়ন বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গ্রুপ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের সমর্থক কাশেম মিয়া গ্রুপ। সংঘর্ষের সূত্রপাত মূলত জাল ভোট ও ব্যক্তিগত বিরোধের জটিলতার ফল হিসেবে ধরা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মো. জিয়া মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ভোট কর্মকর্তাকে জাল ভোটে প্ররোচনার অভিযোগে আটক করে সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়। তিনদিন আগে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। জিয়া মিয়ার মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক শিশু মিয়া সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য দিয়ে তার গ্রেফতারে সহায়তা করেছিলেন।
এই অভিযোগের জেরে সোমবার বিকালে জিয়া মিয়ার পক্ষ শিশু মিয়াকে মারধর করে এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ ঘটনার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। দুপুর ২টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কাশেম মিয়া গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে জড়ো করার আহ্বান জানান। একইভাবে লালুয়ারটুক জামে মসজিদ থেকেও সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক বলেন, “জাল ভোট ও ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই বড় আকারের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে স্থানীয়ভাবে সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় মামলা করেনি।”
নিম্নে সংঘর্ষ ও আহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সংঘর্ষের স্থান | গোয়ালনগর ইউনিয়ন, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| সংঘর্ষের সময়কাল | মঙ্গলবার, দুপুর ২টা – বিকাল ৫টা |
| সংঘর্ষে অংশ নেওয়া পক্ষ | বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গ্রুপ, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাশেম মিয়া গ্রুপ |
| আহতের সংখ্যা | ৫০ জন (নারীসহ) |
| ঘটনার মূল কারণ | জাল ভোট ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিরোধ |
| পুলিশ ও সেনা অবস্থান | অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে |
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন।