খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩২ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যাহ সম্প্রতি ভোটারদের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি হ্যান্ডমাইকে বলেন, “যদি আপনারা ইসলামের পক্ষে, পবিত্র কোরআনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, তাহলে আপনার জন্য জান্নাত অবধারিত। যারা কোরআনের বিরুদ্ধ ভোট দেবেন, তারা গুনাহগার হবেন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই ভিডিওতে দেখা যায়, হাফিজ উল্যাহ ভোটারদেরকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন, বিভিন্ন সরকারি ভাতা—যেমন বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, শিশু ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা—সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তিনি বলেন, “একদল দুর্নীতিতে লিপ্ত, আরেক দল পূর্বে দুর্নীতি করেছে। আমরা ভোটারদের সন্তান, ভাই হিসেবে নিশ্চিত করছি, আমাদের মাধ্যমে একটাকা দুর্নীতি হবে না।”
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তার বক্তব্যকে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। হাফিজ উল্যাহ বলেন, “আমি এমন কোনো বক্তব্য দিয়েছি কি না, তা মনে নেই। হয়তো ভুলবশত মুখ ফসকে বলা হয়েছে। এছাড়া আমার বক্তব্য কখনো কখনো খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।”
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। তিনি জানান, “যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেন, তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিম্নে ভোট ও বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত প্রধান তথ্যসমূহ সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রার্থী | এ আর হাফিজ উল্যাহ |
| আসন | লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) |
| দল | জামায়াতে ইসলামী |
| বিতর্কিত মন্তব্য | ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে ভোটারদের জান্নাতের আশ্বাস |
| তারিখ | ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (রোববার) |
| ঘটনাস্থল | রামগতি উপজেলা, লক্ষ্মীপুর |
| ভিডিও প্রকাশ | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | খতিয়ে দেখা চলছে; লিখিত অভিযোগ পেলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় অনুভূতি প্রেরণ করে ভোট প্রভাবিত করা সংবিধান ও নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ভোটারদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানো এবং ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত প্রভাব থেকে স্বাধীনভাবে ভোট নেওয়া উচিত।
এই ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ছে। জনগণ এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আসন্ন নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু রাখার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।