খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৮ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে আজ বুধবার ১৯ দিন পূর্ণ হলো। মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে অদ্ভুত স্থিরতা দেখা যাচ্ছে। সোনার দাম কেবল সামান্য ওঠানামা করছে, যা অর্থনীতিবিদদের নজর কাড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর যুদ্ধ কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি ঘোষণা করেন হরমুজ প্রণালী ‘বন্ধ’ করা হয়েছে। এই প্রণালীর মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০% পরিবহিত হয়। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।
তবে শেয়ারবাজার ও সোনার বাজারে চিত্র ভিন্ন। গত দুই সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে চাপ দেখা গেলেও সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত বছর ৭০%-এর বেশি বেড়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে ২৬ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি ৫,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর থেকে সোনার দাম প্রায় একই স্তরে ঘোরাফেরা করছে।
| তারিখ | স্পট মার্কেট দাম (USD/আউন্স) | গোল্ড ফিউচার্স (USD/আউন্স) |
|---|---|---|
| ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ৫,০০২ | ৫,০০৫ |
| ১০ মার্চ ২০২৬ | ৪,৯৯১ | ৪,৯৯৮ |
| পরিবর্তন | -১১ | -৭ |
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম স্থিতিশীল থাকার মূল কারণ হলো ইতিমধ্যে দাম বেশ উঁচু। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীরা ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের দিকনির্দেশনার ওপর নজর রাখছেন। সুদের হার বাড়লে ডলারে বিনিয়োগ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে এবং সোনার চাহিদা কমে যায়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সোনা এখন অনেকের কাছে জল্পনানির্ভর সম্পদ হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্যারিসভিত্তিক ফরাসি আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ রেমি বুরজো জানান, “দুই বছর আগের মতো অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে সোনাকে সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে আর ব্যবহার করা হচ্ছে না।” ব্রুগেল থিঙ্কট্যাংকের জ্যেষ্ঠ ফেলো রেবেকা ক্রিস্টি বলেন, “সোনার দাম ইতিমধ্যেই ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। ডলারের শক্তিশালী অবস্থাও সোনার দাম বাড়ানোকে কঠিন করছে।”
সোনার দাম ভবিষ্যতে বড়ভাবে ওঠার জন্য দুটি শর্ত গুরুত্বপূর্ণ:
ফেডারেল রিজার্ভ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করবে যে মূল্যস্ফীতি থাকা সত্ত্বেও সুদের হার কমানো হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হয় এবং তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।
যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে, সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আপাতত বিশ্ববাজারে সোনার দাম বড় ধরনের উত্থানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই মুহূর্তে সোনা ততটা নিরাপদ বিকল্প নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে geopolitical ঝুঁকি আবারো সোনাকে আকর্ষণীয় করতে পারে।