খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শাহবাগ থানার দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতে জামিন আবেদন করেননি।
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হকের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই তৌফিক হাসান লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানির সময় লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সাইফ জানান, তার মক্কেল ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে জামিন আবেদন করা সম্ভব হয়নি।
আইনজীবী সাইফ বলেন, “জামিনের জন্য স্বাক্ষর চাইলে তিনি জানান— যে আদালতের জামিন দেওয়ার এখতিয়ার নেই, তার কাছে কেন জামিন চাইব? আমি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করব না, জামিনও চাইব না।”
তবে আসামিপক্ষের অন্য আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন তা বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন— মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন (৫৫), মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), মো. জাকির হোসেন (৭৪), মো. তৌছিফুল বারী খান (৭২), মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭), মো. আল আমিন (৪০), মো. নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০) এবং মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকার সময়ও এই নিরাপত্তা সরঞ্জাম তাদের গায়ে ছিল। এক পর্যায়ে আসামি শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “ভয়াবহ অবস্থা, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলি।” পরে পুলিশ জ্যাকেট খুলে দেয়।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে লতিফ সিদ্দিকীকে হাস্যজ্জ্বল দেখা যায়। তিনি পানি পান করেন এবং মাঝে মধ্যে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্য আসামিরা স্বাক্ষর করলেও তিনি দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান জানান। আদালত শেষে সাংবাদিকরা তার কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি মাথা নাড়িয়ে ‘না’ বলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে কাজ করার লক্ষ্যে গঠিত ‘মঞ্চ ৭১’-এর উদ্যোগে গত ২৮ আগস্ট সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি গোলটেবিল বৈঠক চলাকালে একদল ব্যক্তি হট্টগোল সৃষ্টি করে। তারা সভাস্থল ঘেরাও করে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং উপস্থিতদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় লতিফ সিদ্দিকী ও অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ রাখা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে আটক করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিআরইউতে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক বৈঠকে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সেখানে মব হামলার মুখে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা আক্রান্ত হন। পরে লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন এবং সাংবাদিক মনজুরুল ইসলাম পান্নাসহ কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ও জাসদের নেতা আব্দুল্লাহীল কাইয়ুমসহ কয়েকজন মারধরের শিকার হন। পরবর্তীতে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ এবং গ্রেপ্তার দেখানো হয় আসামিদের।
খবরওয়ালা/শরিফ