খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
ভালোবাসার পিছু ধরে চীনের গুয়াংজু থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন ওয়াং তাওজেন। তিনি আশা করেছিলেন সুরমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করবেন। কিন্তু আইনি জটিলতা এবং দূতাবাসের সতর্কবার্তার কারণে তার এই স্বপ্ন থমকে যায়। তাওজেন বিয়ে না করে দেশে ফিরে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ত্যাগ করেন। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সুরমার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
প্রায় দেড় মাস আগে ‘ওয়াল টক’ নামের একটি অনলাইন অ্যাপে তাদের পরিচয় হয়। কথোপকথনের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাওজেন বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। সুরমার পরিবারও প্রথমে আপত্তি করেননি। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়।
বিয়ের নির্ধারিত দিন ছিল রবিবার (২ নভেম্বর)। তবে স্থানীয়ভাবে আয়োজনের আগে আইনি জটিলতা দেখা দেয়। সোমবার আদালতের মাধ্যমে বিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
কিন্তু আইনজীবীরা জানান, বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিবাহের ক্ষেত্রে দূতাবাসের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। তাওজেন চীনা দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। সেখানে কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশি নারীদের সঙ্গে বিয়েতে সম্প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি হয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, চীনে নারী-পুরুষের অনুপাত ভারসাম্যহীন হওয়ায় অনেক পুরুষ বিদেশি নারীকে বিয়ে করার চেষ্টা করছেন। কিছু মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় হওয়ার কারণে বিদেশি নারীকে বিয়ে করতে হলে দেশের আইন মেনে চলতে হবে এবং অবৈধ অনলাইন প্রতারণা থেকে দূরে থাকতে হবে।
দূতাবাসের নির্দেশনার পর বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে সেখান থেকেও কোনো স্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে সব প্রস্তুতি নেওয়ার পরও বিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
এই সময়ের মধ্যে তাওজেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। স্থানীয় এক মসজিদে ইমামের মাধ্যমে তিনি ধর্মান্তরিত হন।
সুরমার চাচা বলেন, স্থানীয়ভাবে এবং আদালতের মাধ্যমে বিয়ে পড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আইনি জটিলতা এবং দূতাবাসের নিষেধাজ্ঞায় তা সম্ভব হয়নি। তাওজেন বিষয়টি বুঝেছেন এবং দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরে বিয়ের পরিকল্পনা করেছেন।
চীনা দূতাবাসও জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি এই ধরনের আন্তসীমান্ত বিয়েতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
তাওজেনের চীনা থেকে বাংলাদেশে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নাসিরনগরে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন কৌতূহলী মানুষ সুরমার বাড়িতে ভিড় করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, আগে চলচ্চিত্রে এমন গল্প দেখা যেত, এখন বাস্তবেও ঘটছে। কেউ কেউ আশা করছেন, ভালোবাসার এই গল্পের পরিণতি আরও সুন্দর হোক।
আইনি জটিলতার কারণে বিয়েতে ব্যর্থ হলেও সুরমা ও তাওজেনের সম্পর্ক অটুট রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাওজেন দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবার বাংলাদেশে আসবেন।
সুরমার এক আত্মীয় বলেন, ‘তাওজেন সুরমাকে আশ্বাস দিয়েছে, সব আইনগত বিষয় ঠিক করে ফেরত আসবে। আমরা চাই তাদের ভালোবাসা সুন্দরভাবে পরিণত হোক।’
খবরওয়ালা/টিএসএন