খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) শয্যাসংকটের কারণে গত এক মাসে ২২৯ জন রোগী মারা গেছেন, যার মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যা ৯১। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এই সংকটের সমাধানে ১০০ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের প্রস্তাব গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে শয্যার সংখ্যা মোট ৪০। এর মধ্যে শিশুদের জন্য বরাদ্দ ১২, বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য ১৬, এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১২টি। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে শিশু আইসিইউ শয্যার সংখ্যা অন্য বিভাগ থেকে ছয়টি শয্যা যোগ করে ১৮ করা হয়েছে। হাসপাতাল মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, এর মধ্যে ১২টি বেড বিশেষভাবে হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য সংরক্ষিত।
চলতি মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী:
| বিভাগ | ভর্তি রোগীর সংখ্যা | অপেক্ষমাণ তালিকা | মৃত্যু |
|---|---|---|---|
| শিশু | ১১৯ | ৩৮৬ | ৯১ |
| বয়োজ্যেষ্ঠ | ১৪৩ | ৩০২ | ৭০ |
| প্রাপ্তবয়স্ক | ১৩৫ | ৩১২ | ৬৮ |
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে শিশুদের অবস্থা দ্রুত জটিল হচ্ছে, ফলে আইসিইউতে প্রয়োজনীয় শয্যার সংখ্যা হঠাৎ বেড়েছে। শংকর কে বিশ্বাস আরও বলেন, “আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশু মারা গেছে। এ পর্যন্ত হামের কারণে ৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন ভর্তি হয়েছে ১৮ জন এবং বর্তমানে ১২৩ জন চিকিৎসাধীন।”
আইসিইউ শয্যাসংকটের বাস্তব চিত্র রোগীর স্বজনদের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। কুষ্টিয়ার রিফাতের পাঁচ মাস বয়সী মেয়ের আইসিইউর জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় সিরিয়াল ছিল ৩২। গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় মেয়েটি মারা যায়। রিফাত কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আইসিইউতে জায়গার জন্য কতজনের হাত–পা ধরলাম। আমার মেয়ের জন্য জায়গা হলো না।” অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯ মাস বয়সী দুই শিশুর ক্ষেত্রেও, যাঁরা মার্চ মাসে যথাক্রমে ২৬ ও ৩১ নম্বর সিরিয়ালে থেকে মারা যান।
১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২০১৩ সালে ১,২০০–এ উন্নীত হলেও দৈনিক রোগী সংখ্যা প্রায় ৩,৫০০। রাজশাহী বিভাগের বাইরে অন্যান্য জেলা থেকেও রোগী আসায় চাপ আরও বেড়ে যায়। বিশেষভাবে শিশু আইসিইউর চাহিদা মার্চে হঠাৎ বেড়ে গড়ে ৫০–এ পৌঁছেছে, যা হাসপাতালের বর্তমান ক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
শিশুদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, দ্রুত অতিরিক্ত আইসিইউ বেড স্থাপন এবং অক্সিজেন সরবরাহ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।