খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
বিশ্বের কিছু দেশে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি, এবং এর পেছনে রয়েছে নানা কারণ, যেমন আয়ুষ্কাল, অভিবাসন, এবং স্বাস্থ্যগত ফ্যাক্টর। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘের ‘পপুলেশন ডিভিশন’ এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে এমন ১০টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি। চলুন, দেখে নেওয়া যাক সেই ১০টি দেশ:
১. লাটভিয়া
লাটভিয়ায় ৫৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ নারী। এখানে ৪৩ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা বেশি। কিন্তু ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। পুরুষদের তুলনায় নারীরা স্বাস্থ্যগত দিক থেকে এগিয়ে। পুরুষেরা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও বেশি ধূমপান করেন, যার ফলে তাদের আয়ুষ্কাল কম।
২. আর্মেনিয়া
আর্মেনিয়ার মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৬১ শতাংশ নারী। দেশটির পুরুষেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদেশে কর্মের জন্য চলে যায়। যার ফলে নারীদের সংখ্যা বাড়ে। তবে কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশের সুযোগ কম এবং রাজনীতিতেও তাদের অংশগ্রহণ সীমিত।
৩. টোঙ্গা
টোঙ্গায় মোট জনসংখ্যার ৫২ দশমিক ৫৯ শতাংশ নারী। এর একটি বড় কারণ আয়ুষ্কাল। ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টোঙ্গায় নারীদের গড় আয়ু পুরুষের তুলনায় প্রায় পাঁচ বছর বেশি। পুরুষের আয়ুষ্কাল কম হওয়ার জন্য অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনেকটা দায়ী। টোঙ্গায় শৈশব থেকেই ছেলেদের ধূমপান করা, মারামারি ও কুস্তি করা সমাজে মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু একটি মেয়ে এসব কাজ করবে, তা সমাজ ভাবতে পারে না। সেখানে লিঙ্গবৈষম্যও তীব্র।
৪. ইউক্রেন
ইউক্রেনের মোট জনসংখ্যার নারীর সংখ্যা ৫৩ দশমিক ৫০ শতাংশ নারী, এবং দেশটিতে নারীরা পুরুষদের তুলনায় দীর্ঘায়ু। ২০২১ সালে ইউক্রেনে নারীর গড় আয়ুষ্কাল ছিল ৭৫ বছরের বেশি, যেখানে পুরুষদের গড় আয়ু ছিল ৬৬ বছর। অর্থাৎ নারী ও পুরুষের মধ্যে গড় আয়ুষ্কালের ব্যবধান প্রায় এক দশক।
৫. মলদোভা
ইউরোপের দেশ মলদোভার মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ নারী। এরপরও দেশটিতে এখনো লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য বেশ তীব্র। মলদোভায় নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের হার বাড়লেও কর্মক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশ পিছিয়ে। নারীদের গৃহস্থালি কাজের চাপ এবং শিশু দেখাশোনার দায়িত্বও বেশিরভাগ সময় নারীদের ওপরই পড়ে।
৬. রাশিয়া
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অনেক পুরুষ নিহত হয়েছিলেন। যে কারণে ১৯৫০ সাল থেকেই রাশিয়ায় মোট জনসংখ্যায় পুরুষের তুলনায় নারী বেশি। রাশিয়ায়ার মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ নারী। দেশটিতে পুরুষরা মদ্যপান ও আত্মহত্যার দিকে বেশি ঝুঁকছেন, যা তাদের আয়ুষ্কালকে প্রভাবিত করে।
৭. জর্জিয়া
জর্জিয়ায়ার মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ নারী। অভিবাসন এবং আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির কারণে এখানে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি। দেশটির পুরুষেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদেশে যান, এবং নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি আয়ু পান। ২০২৩ সালে জর্জিয়ায় পুরুষদের গড় আয়ু ৭০ দশমিক ৬ বছর এবং নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৯ দশমিক ৪ বছর।
৮. সার্বিয়া
সার্বিয়ায় মোট জনসংখ্যার ৫২ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী। তবে জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী হলেও দেশটির কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় কম, ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ। গড় আয়ুষ্কালও জনসংখ্যায় নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ। ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সার্বিয়ায় একজন নারীর গড় আয়ু ৭৫ দশমিক ৬ বছর, পুরুষের গড় আয়ু ৭০ বছর।
৯. বেলারুশ
বেলারুশে মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৪০ শতাংশ নারী, যদিও দেশটি গভীরভাবে পুরুষতান্ত্রিক, লিঙ্গবৈষম্যও তীব্র। কর্মক্ষেত্রে নারীরা ৫৪ শতাংশ অংশগ্রহণ করেন। বেলারুশে নারীর গড় আয়ু ৭৮ বছর, পুরুষদের গড় আয়ু ১০ বছর কম।
১০. লিথুয়ানিয়া
লিথুয়ানিয়ায় মোট জনসংখ্যার ৫২ দশমিক ৮৫ শতাংশ নারী। এর প্রধান দুই কারণ, আয়ুষ্কাল ও শরণার্থী অভিবাসন। লিথুয়ানিয়ায় গড়ে একজন নারী একজন পুরুষের তুলনায় ৯ বছর বেশি বাঁচেন। নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় আয়ু কম হওয়ার কারণ ধূমপান, মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়ামে অনীহা।ৎ
লিথুয়ানিয়ায় ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে দুই–তৃতীয়াংশ নারী। এ ছাড়া গত কয়েক বছরে ইউক্রেন থেকে প্রচুর শরণার্থী লিথুয়ানিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। এটিও দেশটির জনসংখ্যায় নারীর অনুপাত বাড়াতে কাজ করেছে। লিথুয়ানিয়া যে ৫৪ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, তার মধ্যে ৩২ হাজার জন নারী।
এই দেশেগুলোতে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি হওয়ার পেছনে মূলত আয়ুষ্কাল, অভিবাসন, এবং স্বাস্থ্যগত কারণগুলোর ভূমিকা রয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআর