যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ ও পরবর্তী হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া খণ্ডিত মরদেহ ও তথ্যপ্রমাণ একত্রিত করে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি উভয়ই উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে গত শুক্রবার টাম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিনে সন্দেহভাজন হিসেবে হিশাম আবুঘরবেহ নামে এক মার্কিন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি লিমনের রুমমেট ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর দুই দিন পর, একই ব্রিজের দক্ষিণ পাশে একটি জলাশয় থেকে আরও একটি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই অংশটি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। একটি ফৌজদারি মামলার হলফনামা অনুযায়ী, ২৬ এপ্রিল উদ্ধার হওয়া ওই মরদেহের অংশে পাওয়া পোশাকের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে বৃষ্টিকে শেষবার দেখা যাওয়ার সময় তাঁর পরনের পোশাকের মিল পাওয়া গেছে। যদিও এখনো মরদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়নি।
তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে বৃষ্টির পরনের পোশাকের ধরন এবং উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত মরদেহের পোশাকের ধরন একই ধরনের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত পরিচয় নিশ্চিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, হিশাম আবুঘরবেহের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির হত্যার দুইটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষিপ্তসার
| তারিখ |
ঘটনা |
| ১৬ এপ্রিল |
জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন |
| পরবর্তী শুক্রবার |
টাম্পা বে’র হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচে লিমনের মরদেহ উদ্ধার |
| একই দিন |
সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহ গ্রেপ্তার |
| দুই দিন পর |
ব্রিজের দক্ষিণ পাশে জলাশয় থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার |
| ২৬ এপ্রিল |
উদ্ধার হওয়া অংশের পোশাক ও সিসিটিভি ফুটেজে বৃষ্টির পোশাকের মিল পাওয়া যায় |
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ একত্রিত করে পুরো ঘটনাটির ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হয়নি।