দাম সমন্বয়ের পরও বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন মুদি দোকান ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। দোকানদার ও পাইকারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ের মূল্য সমন্বয়ের পরও বাজারে প্রত্যাশিত পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল আসেনি।
দোকানদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিলাররা যে দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ করছিলেন, তাতে প্রতি লিটারে লাভ ছিল মাত্র ১ টাকা। এ কারণে অনেক খুচরা বিক্রেতা সীমিত পরিসরে তেল সংগ্রহ করেন। তারা জানান, স্বল্প লাভের কারণে বাজারে পর্যাপ্ত মজুত রাখা সম্ভব হয়নি। তবে দাম সমন্বয়ের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার প্রভাবেও বাজারে সয়াবিন তেলের ঘাটতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ভোক্তা পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি হয় বলে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন। এমন অবস্থার মধ্যেই বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজার থেকে অনেক জায়গায় অনুপস্থিত হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বুধবার সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করে। নতুন নির্ধারিত দরে খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ১৭৯ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, যদিও এখনো তা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দোকান পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে অথবা কিছু দোকানে তা অনুপস্থিত। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, নতুন দরে ডিলার পর্যায় থেকে নিয়মিত সরবরাহ শুরু হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
নিচে বর্তমান নির্ধারিত দামের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| পণ্যের ধরন |
নির্ধারিত দাম (প্রতি লিটার) |
| খোলা সয়াবিন তেল |
১৭৯ টাকা |
| বোতলজাত সয়াবিন তেল |
১৯৯ টাকা |
দোকান পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল না হলে দাম সমন্বয়ের প্রভাব সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। ফলে বাজারে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়াকেই তারা প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বর্তমানে বাজারে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চলছে এবং নতুন মূল্য কাঠামোর আওতায় সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।