রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার প্রায় ষোল ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কেউ আটক বা গ্রেপ্তারও হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত চলমান থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
নিউমার্কেট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক সিয়াম আহমেদ দুপুরে জানান, নিহত টিটনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক পৌনে আটটার দিকে নিউমার্কেট এলাকার পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে খুব কাছ থেকে টিটনকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর পথচারীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সময় হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার পথে আতঙ্ক ছড়াতে আরও কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে জানা গেছে। এতে আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ ছুটোছুটি শুরু করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন। প্রথমে স্থানীয় অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে তিনি ধীরে ধীরে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, অস্ত্র ব্যবসা ও সংগঠিত অপরাধের অভিযোগ ছিল। পুলিশের ধারণা, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
রমনা বিভাগের এক উপকমিশনার গত রাতে জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া যায়নি। তবে পাশের এলাকার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্তে কাজ চলছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
নিচে টিটনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| জন্ম সাল |
১৯৬৬ |
| পিতা |
কে এম ফখরুদ্দিন |
| মাতা |
আকলিমা বেগম |
| অপরাধ জগতে প্রবেশ |
১৯৯০-এর দশকের শুরু |
| গ্রেপ্তার |
২০০৪ সালে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে |
| মৃত্যুদণ্ডের রায় |
২০১৪ সালে একটি হত্যা মামলায় |
| জামিনে মুক্তি |
২০২৪ সালের ১২ আগস্ট |
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, টিটন এক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। তিনি অপর এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিলেন বলেও জানা যায়। কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং গোপনে চলাফেরা করতেন।
বর্তমানে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত একটি পেশাদার হত্যাকাণ্ড, যার পেছনে সংগঠিত অপরাধচক্রের হাত থাকতে পারে।