খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া দুটি পৃথক হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন এবং একই সঙ্গে রুল জারি করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জামিন চেয়ে আইভীর করা পৃথক দুই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত আসে। শুনানিতে তাঁর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু উপস্থিত ছিলেন। সহায়তা করেন আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
মামলার নথি অনুযায়ী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ৩০ জুন এই দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে একটি মামলায় চলতি বছরের ২ মার্চ এবং অন্যটিতে ১২ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে পৃথকভাবে আবেদন করেন।
এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলার মধ্যে পাঁচটিতে গত বছরের ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে, যার ফলে ওই জামিন স্থগিত হয়।
পরবর্তীতে আরও পাঁচটি মামলায়, যেগুলোর এজাহারে তার নাম ছিল না, তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সেখানেও তিনি জামিন পান। তবে সেই জামিনও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আপিল প্রক্রিয়ায় স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে এসব মামলার শুনানি আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
| তারিখ | ঘটনা | অবস্থা |
|---|---|---|
| ২০২৪ সালের ৯ মে | নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার | পাঁচ হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা যুক্ত |
| ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর | হাইকোর্ট থেকে প্রথম দফা জামিন | রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে স্থগিত |
| ২০২৫ সালের ২ মার্চ | এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো | বিচারাধীন |
| ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল | আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো | বিচারাধীন |
| ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি | আরও পাঁচ মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন | আপিল প্রক্রিয়ায় স্থগিত |
| ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল | দুটি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন | হাইকোর্ট রুল জারি |
আইভীর আইনজীবীরা দাবি করেছেন, নতুন করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ সংশ্লিষ্ট কিছু মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না। এ বিষয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানিতে আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না।
আইভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবন দীর্ঘ। তিনি ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। এরপর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।
বর্তমানে তিনি একাধিক মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং উচ্চ আদালতে ধারাবাহিকভাবে তার জামিন ও গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা নিয়ে শুনানি চলমান রয়েছে।